ম্যাডাম বউ১২
ম্যাডাম বউ পর্বঃ১২ ভাইয়া কিছু বলবে তার আগে আমিই বললাম.... আমিঃতুই নিচে যা আমি আসছি। ভাইয়াঃএখানে থেকে কি করবি,সেই তো সিগারেট খাবি।নিচে চল এখন। আমিঃএকটু পর যাবো।আর তুই জানলি কি করে আমি ছাদে এসেছি? ভাইয়াঃরুমের দরজা খুলা ছিলো।রুমে গিয়ে দেখি তুই নেই।ভাবলাম ছাদে আছিস হয়তো। আমিঃওহ ভাইয়াঃতোর এক্সাম কবে থেকে? আমিঃসামনের মাসের ১ তারিখ থেকে। ভাইয়াঃরুমে গিয়ে একটু পড়াশোনা কর তাহলে। আমিঃপড়লেও লাভ হবে না। ভাইয়াঃকেনো? আমিঃআগের বারের মতো জান্নাত আমাকে ফেল করাবে। ভাইয়াঃতুই না চাইলে ফেল করাতে পাড়বে না। আমিঃহুম ভাইয়াঃতুই নিচে আয় আমি যাচ্ছি। আমিঃঠিক আছে। ভাইয়া চলে যাওয়ার পর আরো একটা সিগারেট খাওয়ার পর রুমে এসে ঘুমিয়ে গেলাম। ভাবছিলাম এক্সাম আর দিবো না।কিন্তু এক্সাম দিতে হবে।আর কতোটা জান্নাতের অবহেলা সহ্য করবো।এভাবেই কয়েকটা দিন পাড় হয়ে গেলো। আগামীকাল এক্সাম তাই রাতে পড়াশোনা শেষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র টেবিলে রেখে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন,,,,,,,,, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করার জন্য নিচে আসলাম।বরাবরের মতো আব্বু চুপ করে আছে। আজ কেনো জানিনা আব্বুর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে।কিন্তু বললাম না।না খেয়েই উঠে গেলাম।রুম থেকে সব কিছু নিয়ে বেড়িয়ে যাবো তখনি আম্মু বলল, আম্মুঃনিলয়, না খেয়ে এক্সাম দিতে যাবি? আমিঃখাওয়ার ইচ্ছা নাই। আম্মুঃকিছু একটা খেয়ে যা আমিঃবাইরে থেকে খেয়ে নিবো আব্বুঃনীলের মা,তোমার ছেলেকে বলো গাড়ি যেনো না নিয়ে যায়। আম্মুঃকি বলছো এসব? আমিঃআম্মুউ,উঁহু কোনো কথা না।আর আমি এমনিতেই গাড়ি নিতাম না।রুমে টেবিলের উপর চাবি রাখা আছে। আর কোনো কথার সম্মুখীন না হয়ে বের হয়ে আসলাম।যে নিজের ছেলেকে অকারণে অবহেলা করছে তার সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছা নেই। মুলত,উনার জন্যই না খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। বাসার বাইরে প্রায় ১০মিনিট অপেক্ষা করার পর একটা রিক্সার দেখা মিলল।সেটা করেই কলেজের জন্য রওনা দিলাম। আব্বু আম্মুর কথা...... আম্মুঃঅনেক ভালো ব্যবহার করছো ছেলেটার সাথে তাই না? আব্বুঃযেটা করছি সেটা ওর শাস্তি। আম্মুঃশাস্তি..!কিন্তু কিসের শাস্তি দিচ্ছো ছেলেটাকে আব্বুঃজান্নাতের সাথে কি করেছে জানো? আম্মুঃকি করেছে নিলয় আব্বুঃতোমার ছেলে, জান্নাতকে কল দিয়ে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়েছে।জেরিকে কিডন্যাপ করে জান্নাতকে হুমকি দিয়েছে।তারপরেও বলবে তোমার ছেলে কিছু করেনি? আম্মুঃনিলয় শুধুমাত্র আমার ছেলে নয়,ও তোমারও ছেলে। আব্বুঃলজ্জা লাগে ওকে এখন ছেলে ভাবতে। ওর মতো ছিটার লম্পট ছেলে থাকার থেকে না থাকায় ভালো ছিলো। আম্মুঃআর একটাও আজেবাজে কথা বলবে না। আব্বুঃএগুলো মোটেও বাজে কথা নয়। আম্মুঃঅন্য একটা মেয়ের জন্য নিজের ছেলেকে খারাপ বানিয়ে দিচ্ছো? আব্বুঃও অন্য কোনো মেয়ে নয়।ও আমার একমাত্র বন্ধুর মেয়ে। আম্মুঃনিলয়ও আমার ছেলে।আর তোমার যদি এতোই নিলয়কে পছন্দ না হয় তাহলে কখনো আমার ছেলেকে কোনো কাজে বাধা দিবে না। আমি নিলয়কে বলে দিবো ও যেনো তোমার সাথে আর কথা না বলে। আম্মুর এমন কথায় আব্বু অনেকটা বিচলিত হয়ে গেলো।কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারলো না।আম্মু নিজেও নাস্তা না করে রুমে চলে গেলো। ----------------------------------------------- রিক্সা করে আসাতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। সোজা এক্সাম হলে চলে গেলাম।টিচার না আসলেও সবাই আগে থেকেই বসে আছে।সিট নাম্বার দেখে বসে পড়লাম।এক্সামের প্রিপারেশন অনেক ভালো ছিলো।শুধু আজকেই না।আগে থেকেই এক্সামের প্রিপারেশন ভালো হয়।টিচার এসে এক্সাম দিতে লাগলো।পেপার নিয়ে লিখতে শুরু করলাম।সব গুলো প্রশ্ন লেখার পর হাতে এখনো ১৫মিনিট সময় ছিলো তাই খাতাটা দেখতে লাগলাম কোথায় ভুল হয়েছে কিনা। সেদিনের মতো এক্সাম শেষ করে বাসায় চলে আসলাম।এরই মাঝে কয়েকটা এক্সাম শেষ হলো। এই কয়েকদিন জান্নাতের সাথে তেমন কথা বা দেখা কিছুই হয়নি।আগামীকাল ইংরেজি এক্সাম, মানে জান্নাতের এক্সাম।জানি আমাকে ফেল করানোর জন্য অপ্রাণ চেষ্টা করবে।তবুও অনেক ভালো করেই প্রিপারেশন নিলাম। পরেরদিন বন্ধুদের সাথে এক্সাম হলে ঢুকলাম। কিছু সময় পর অন্য একটা টিচারের সাথে জান্নাত রুমে আসলো।হয়তো আজ আমাদের রুমেই ওর ডিউটি পরছে।বেল পড়তেই সবাইকে এক্সাম পেপার দিয়ে দিলো।যে সকল প্রশ্ন এসেছে প্রায় সবটাই আমার জানা।তাই দেরি না করে লিখতে শুরু করলাম।কিন্তু আমার এক্সাম হয়তো ওর সহ্য হচ্ছিলো না।কাছে আসলো.... জান্নাতঃ স্ট্যান্ড আপ আমিঃকেনো? জান্নাতঃ স্ট্যান্ড আআপ(ধমক দিয়ে) আমিঃ....(দাঁড়িয়ে গেলাম) জান্নাতঃচিট কোথায়? আমিঃহোয়াট,আমি চিট করছি? জান্নাতঃতুই কতো ভালো ছেলে সেটা আমার জানা আছে।চিট কোথায় আছে বের কর। আমিঃআমার কাছে কোনো চিট নেই। জান্নাতঃস্যার এদিকে আসুন তো স্যারঃহ্যা বলেন জান্নাতঃওকে চেক করেন তো আমিঃস্যার আমার কাছে কোনো চিট নেই স্যারঃজান্নাত ম্যাম,নিলয় তেমন ছেলে নয় জান্নাতঃআমি যেটা বললাম সেটা করেন। স্যারঃনিলয়,বেড়িয়ে আয়। আমিঃস্যার সত্যি বলছি নাই আমার কাছে স্যারঃআমি জানি নেই।কিন্তু উনার জন্য এমন করতে বাধ্য হচ্ছি(আস্তে আস্তে বলল) জান্নাতঃশার্টের ভাজ খুলে চেক করেন। আমিঃ....(খুলে দিলাম) আরো কিছু সময় চেক করলো। স্যারঃওর কাছে কোনো চিট নেই। জান্নাতঃআবার চেক করেন আমিঃআর একটা বার আমাকে কেউ টাচ করবে না।তোর জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো এতোটা সময়ে ওর কি অবস্থা করতাম নিজেও জানিনা। আমাকে এভাবে লিখতে না দেয়ার প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে আমাকে ফেল করানো।আমি যদি ফেল করি ক্লাসের একটা স্টুডেন্টস পাশ করতে পারবে না।পাওয়ার দেখাচ্ছিস তাই না। এই যে টেবিল থেকে বই নিয়ে আমার সিটে বসলাম পাড়লে বই নিয়ে দেখা।আর একটাবার যদি আমাকে এভাবে ডিস্টার্ব করিস আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। প্রচণ্ড রাগ উঠে গেছে মাথায়।এক্সাম হল না হলে কি হতো আল্লাহ ভালো জানেন।২মিনিট পর শান্ত হওয়ার পর আবার পুনরায় লিখতে লাগলাম। তবে বইয়ের সাহায্যে না।এটা শুধু জান্নাতকে দেখানোর জন্য করা।প্রায় ১৫মিনিট এমন ভাবে কেটে গেছে।দ্রুত লিখতে লাগলাম।ওয়ার্নিং বেল বেজে গেছে।এখনো একটা প্রশ্ন লিখতে হবে। এক্সাম শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে লেখা শেষ হলো।রিভিশন দেয়ার কোনো সময় পেলাম না। বেল বাজার সাথে সাথে সবার আগে আমার খাতাটাই জান্নাত কেড়ে নিলো।তবুও চুপচাপ সব মেনে নিলাম।বাইরে এসে বন্ধদের থেকে বিদায় নিয়ে হেটে বাসার দিকে রওনা দিলাম।রিক্সা ভাড়ার টাকাটাও এখন কাছে নেই।কিছুটা সময় হাটার পর জান্নাতদের গাড়ি এসে সামনে থামলো। ভিতর থেকে আঙ্কেল বের হতেই সালাম দিলাম। আঙ্কেলঃতুই হেটে যাচ্ছিস কেনো? আমিঃহেটে যাওয়ার মতো কাজ করলে তো হেটেই যেতে হবে তাই না স্যার। আঙ্কেলঃবুঝলাম না।কি করছিস তুই? আমিঃআপনার জেনে আর লাভ নেই। আঙ্কেলঃআয় গাড়িতে উঠ,তোকে নামিয়ে দিয়ে আমি আর জান্নাত বাসায় চলে যাবো। আমিঃধন্যবাদ তবে আমি একা যেতে পারবো। আঙ্কেলঃএকটা রিক্সা করে যা। আমিঃটাকা নাই রিক্সা ভাড়ার। আঙ্কেলঃএই নে টাকা। আমিঃরাস্তার ফকির না আমি।আর আপনার বন্ধুকে যেসব কথা বলেছেন সেসবের জন্য ধন্যবাদ আঙ্কেল কিছু একটা বলতে যাবে তখন রিয়ার ডাকে বাম পাশে তাকালাম।একটা রিক্সায় বসে আছে।হয়তো বাসায় যাচ্ছে। রিয়াঃনিলয়, বাসায় যাবে না? আমিঃহুম যাবো। রিয়াঃআসো তোমাকে নামিয়ে দিয়ে যায়। আমিঃআসছি।আঙ্কেল বাই। আঙ্কেলঃদাড়া... আমিঃজি বলেন আঙ্কেলঃতোর বাবাকে আমি কি বলেছি? আমিঃআমার থেকে আপনি এবং আপনার বড় মেয়ে ভালো জানেন।ভালো থাকবেন। আঙ্কেলকে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে রিয়ার সাথে রিক্সায় উঠে পড়লাম। আমিঃতারাতারি যেতে বলো। রিয়াঃমামা চলো এখন।আর স্যারর সাথে এখানে কি কথা বলছিলে? আমিঃএমনি এক্সাম কেমন হচ্ছে এসব রিয়াঃওহ,স্যার তোমার পরিচিত? আমিঃআব্বুর ফ্রেন্ড। রিয়াঃওহ।কাল তো লাস্ট এক্সাম তাই না। আমিঃহুম তো? রিয়াঃ১৫ দিন আর কেউ কলেজে আসবে না আমিঃপ্রতিবছরই এমন হয়। রিয়ার সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় চলে আসলাম।রিক্সা থেকে নেমে রিয়াকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। -------------------------------------------------- রাতে পড়াশোনা শেষ করে ভাইয়ার রুমে গেলাম। আমিঃভাইয়া আসবো? ভাইয়াঃহ্যা আয়। আমিঃঘুমাস নাই এখনো? ভাইয়াঃঅফিসের কাজ করছিলাম একটু। আমিঃওহ ভাইয়াঃকিছু বলবি? আমিঃআমার কিছু টাকা লাগবে।যেসব টাকা ছিলো রিক্সা ভাড়া দিতে শেষ হয়ে গেছে। ভাইয়াঃরিক্সা ভাড়া মানে? আমিঃ.......(সেদিনের কথা সব বললাম) ভাইয়াঃমন খারাপ করিস না।আর এই নে। (ওয়ালেট থেকে ৫হাজার টাকা দিয়ে) আমিঃএতো টাকা লাগবে না।৫০০টা দিলেই হবে। ভাইয়াঃযেটা দিলাম সেটা রেখে দে। আমিঃকিন............. ভাইয়াঃকোনো কথা না।যা এখন ঘুমিয়ে পড়। আমিঃহুম ভাইয়ার রুম থেকে বের হলাম সাথে ভাইয়া নিজেও বের হয়ে নিচে গেলো। আমিঃকোথায় যাচ্ছিস? ভাইয়াঃনিচে আমিঃকেনো? ভাইয়াঃঅফিসের কাজ নিয়ে আব্বুর সাথে কিছু কথা ডিসকাস করতে হবে। আমিঃওহ ভাইয়াঃতুই ঘুমিয়ে যা। আমিঃঠিক আছে। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে রুমে এসে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন অনেক সকালে ঘুম ভেঙে গেলো। ফ্রেস হয়ে নিচের দিকে দেখলাম কেউ নেই। রেডি হয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম এখনো দেরি ঘণ্টা সময় আছে। তাই একটা রেস্টুরেন্টে এসে সকালের নাস্তা করে বের হলাম।ভাবছি জান্নাতকে আবার সরি বলবো খারাপ ব্যবহারের জন্য।হাতে এখনো অনেক সময় আছে তাই হেটে হেটেই কলেজে আসলাম। গতকালের মতো আজকেও জান্নাত আমাদের রুমে পড়ছে।টাইম প্রায় শেষ।অনেক আগেই লেখা শেষ হয়ে গেছে।শুধু জান্নাতের জন্য বসে আছি।এক্সাম টাইম শেষ হতেই পেপার টান দিয়ে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।টেবিলের উপর যে ফোন রেখে গেছে সেটা হয়তো খেয়ালি করেনি। ফোনটা হাতে নিতে জান্নাতের পিছু পিছু হাটতে শুরু করলাম।বার বার ডাকতে লাগলাম।কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিলো না।কোনো উপায় না পেয়ে হাত ধরলাম। আমিঃএতোটা সময় ডাকছি শুনতে পাও না জান্নাতঃঠাসসসস ঠাসসস জানোয়ার কোথাকার তুই আমাকে স্পর্শ করার সাহস কোথায় পেলি। তোর মতো কুলাঙ্গার ছেলের জন্য স্কুল কলেজের ম্যাডামরাও নির্যাতিত।কুত্তার বা*** তোকে আমি খুব শীঘ্রই কলেজে থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করছি আমিঃআমার কথাটা একব..... জান্নাতঃঠাসসস কোনো কথা বা। আমিঃআপনার ফোন। জান্নাতকে ওর ফোন দিয়ে একটা সেকেন্ডের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না।মাথাটা ঝিনঝিন করছিলো। একটা রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে আসতে লাগলাম। মাথার মধ্যে কিছু কথা ঘুরপাক খাচ্ছিলো,কেনো আমি জান্নাতের এমন বাজে কথায় কোনো প্রতিবাদ করলাম না।যেখানে কলজের সব স্টুডেন্টদের মাঝে থাপ্পড় আর বাজে কথা বলল সেখানে আমি চুপ করে থাকলাম কেনো।নিজের মধ্যে একটা অনুশোচনা কাজ করছে।এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসলাম। আগে থেকেই আব্বু আম্মু আর ভাইয়া নিচে বসে কিছু একটা কথা বলছিলো।উনাদের সাথে কোনো কথা না বলে রুমে আসতে লাগলাম। আম্মুঃনিলয়,এদিকে আয় আমিঃহুম বলো(কাছে গিয়ে) আম্মুঃতোর সাথে এতো কিছু হয়ে গেছে আমাদের একবারও বলার প্রয়োজন মনে করলি না? আমিঃআমার সাথে আবার কি হবে? আম্মুঃনীল আমাদের সব কথা বলছে। আমিঃওহ আম্মুঃকি ওহ,আর তোর গালে এটা কি? আমিঃরিক্সায় আসতে এক্সিডেন্ট করেছিলো আব্বুঃআমার উপর রেগে আছিস? আমিঃনা আব্বুঃতাহলে কথা বলছিস না কেনো? আমিঃতুমি আমার সাথে কথা বললে বিরক্ত হও তাই তোমাকে বিরক্তি করি না। আব্বুঃতোর সাথে এমন ব্যবহার করা আমার একদম ঠিক হয়নি।আমাকে ক্ষমা করে দে বাবা আমিঃকি বলছো এসব,তুমি আমার কাছে কেনো ক্ষমা চাইবে।বাবারা কখনো ছেলেদের কাছে ক্ষমা চাইতে নেই। আব্বুঃতাহলে বল আমার সাথে রাগ করে থাকবি না আর কখনো? আমিঃঠিক আছে থাকবো না। আব্বুঃফ্রেস হয়ে আয় একসাথে লাঞ্চ করবো আমিঃহুম রুমে এসে বাথরুমে ডুকবো তখনি পেছন থেকে কারো হাত কাদের উপর পড়লো।ঘুরে তাকাতে দেখলাম ভাইয়া..... আমিঃতুই এখানে আসতে গেলি কেনো? ভাইয়াঃতোর গালে ওটা কিসের দাগ আমিঃছাড় না এসব ভাইয়াঃতুই বলবি কিনা আমিঃথাপ্পড়ের ভাইয়াঃকে মারছে? আমিঃ............(আজকের সব কথা বললাম) ভাইয়াঃতুই থাক আমি আসছি আমিঃকোথায় যাচ্ছিস ভাইয়াঃঐ মেয়েটাকে উচিৎ শিক্ষা দিতে আমিঃসেটার দরকার নেই।আর এসব জেনো আব্বু আম্মু কেউ না জানে ভাইয়াঃকিন্তু নিলয়... আমিঃভাইয়াআআআ... ভাইয়াঃঠিক আছে।ফ্রেস হয়ে নিচে আয়। আমিঃহুম। ---------------------------------------- কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে গেলো।বন্ধুদের সাথে আড্ডাতে না যাওয়া।বাসায় থেকে খাওয়া আর ঘুমটাই যেনো রুটিন হয়ে গেছে।আজ প্রায় ১ সপ্তাহ বাসার বাইরে যাওয়া হয়না। রাতে আম্মু খাওয়ার জন্য ডেকে গেলেন। খাবার টেবিলে বসে আছি তখন ভাইয়া বলল,,,, ভাইয়াঃআব্বু আমি চাইছি নিলয় অরিতার(ভাবির) বাসায় গিয়ে কয়েকদিন থেকে আসুক।বাসায় একা একা থেকে হয়তো বোরিং হয়ে গেছে।আর সেখানে অরিতার ছোট বোন আইরা কানাডা থেকে বাসায় আসছে,ওর সাথে ঘুরাঘুরি করলে হয়তো মন ভালো হয়ে যাবে।আর আলাদা করে অরিতা তো আছেই। আব্বুঃহুম কথা ভুল বলিস নাই।নিলয়... আমিঃহ্যা বলো আব্বুঃকাল তাহলে রওনা দে আমিঃভাইয়া আমি তোর শালিকে চিনিই না তাহলে সময় কাটাবো কি করে? আম্মুঃআস্তে আস্তে পরিচিত হবি আমিঃওহ আব্বুঃকি ওহ,কাল সকাল হতেই রওনা দিবি আমিঃহুম সবাই মিলে খাবার খেয়ে রুমে আসলাম।ভাবির বোন আইরাকে কখনো দেখিওনি।কথা বলে তো অনেক দূরের ব্যাপার। যতোটুকু জানি,মেয়েটার প্রচুর পরিমানে জেদ।সে যেটা বলবে সেটাই নাকি হবে।ভাইয়া ভাবির বিয়ের সময় প্রিয়ার থেকে শুনেছিলাম এক্সামের জন্য বিয়েতে আসতে পারিনি।সে যায় হোক,এসব ভেবে আমার লাভ নেই।এখন ঘুমিয়ে যাওয়াই ভালো হবে।রুমের লাইট অফ করে ঘুমিয়ে গেলাম। চলবে..........
No comments yet