ভালবাসাটা_ভুল_ছিলো
গল্পঃ #ভালবাসাটা_ভুল_ছিলো পর্ব - ১ লেখকঃ সাফওয়ান . সুমন সাহেব আপনাকে কতবার বলেছি আপনার ওয়াইফ কে আপনি কোন সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়া যান এখানে তার কোন উন্নতিই হচ্ছে না... আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন যে আমার ওয়াইফ পাগল হয়ে গেছে?…এই বলে ডাক্তারের উপর রেগে উঠলো সুমন। -- আমি তা বলি নাই , আমি যাস্ট বলতে চাচ্ছি তার ওখানে আরো ভালো ট্রিটমেন্ট হবে...এই বলে সুমনকে বিনতি করলো ডাক্তার... সুমন তার ওয়াইফকে নিয়া বাসায় ফিরে গিয়ে ভাবছে কি করবে...ফোনে যাকেই বলছে সেই বলছে সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে যেতে। কিন্তু সুমন কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। অবশেষে সুমনের মা অনেক রিকুয়েষ্ট করার পর সুমন সাইকোলজিস্ট এর কাছে যেতে রাজি হলো... . (পরের দিন সুমন ওর ওয়াইফকে নিয়ে সাইকোলজিস্ট এর কাছে গেলো) যাওয়ার পর সুমন তো হতভম্ব হয়ে সাইকোলজিস্ট এর দিকে তাকিয়ে রয়েছে… [সাইকোলজিস্ট হচ্ছে সুমনের এক্স গার্লফ্রেন্ড ফারিয়া] -- কেমন আছেন আপনি?...এই কথা জিজ্ঞাস করে ফারিয়া সুমনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। -- কতটা ভালো আছি তা তো দেখিতেই পারছো...বাই দা ওয়ে এই আমার ওয়াইফ নুসরাত। ফারিয়া নুসরাতের দিকে হ্যান্ডস্যাকের উদ্দেশ্যে হাত বাড়ালো কিন্তু নুসরাত চুপ করে শুধু তাকিয়েই রয়েছে... -- এটাই সমস্যা... কারো সাথে কথা বলে না,, হাসে না,,কিছু খায় না,,শুধু তাকিয়ে থাকে আর চিন্তা করে... --কি হয়েছিলো ওর? -- আমাদের একটা এক্সিডেন্ট হয়। তখন আমাদের ২ বছরের ছেলেটা ওর চোখের সামনে মারা যায়,, তখন থেকেই এই অবস্থা,,একটু কান্নাও করেনি আজ পর্যন্ত...আমাদের কথা আদৌ শুনতে পায় কিনা তাও বলতে পারবো না। -- তোমার ওয়াইফ সরি আপনার ওয়াইফ শক এ আছে...চোখের সামনে ওরকম ছেলেকে হারানো টা কোন মা-ই সহ্য করতে পারে না..তুমি সরি আপনি ওনাকে কোন ডাক্তেরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন? --সমস্যা নেই তুমি করে বলতে পারো -- এই অধিকারটা মনে হয় আমি অনেক আগেই হারিয়েছি এই বলে একটু চুপ করে রইলো ফারিয়া... --হ্যা ডাক্তাররা সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে। সবাই বলেছে কোন সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে যেতে... -- পেসেন্টকে এখানে কিছু দিন থাকতে হবে কোন সমস্যা নেই তো আপনার? -- না সমস্যা নেই কিন্তু আমি নুসরাতকে প্রতিদিন দেখতে আসতে পারবো? -- অবস্যই আসতে পারবেন। আপনি সাথে থাকলে আপনার ওয়াইফ আসা করি আরো তাড়াতড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। . [শুরু হলো নুসরাত এর ট্রিটমেন্ট,,,ট্রিটমেন্ট বলতে প্রতিদিন ব্যায়াম,, সবার সাথে পরিচয় হওয়া,,সবাই একসাথে গল্প করা,,পরিবেশ উপভোগ করা এগুলোই হচ্ছে ট্রিটমেন্ট এর অংশ] . সুমন প্রতিদিন নুসরাত এর সাথে দেখা করতে যায়,, কিন্তু নুসরাত কারো সাথে কথাই বলতো না। সুমন আর ফারিয়া একদিন নুসরাত এর ব্যাপারে কথা বলছে -- -- ফারিয়াকে সুমন জিজ্ঞাস করলো...আগের থেকে কি কোন উন্নতি হয়েছে ওর?.. -- হ্যা,, এখন তো মাঝে মাঝে কথা বলছে কিন্তু সবার সাথে না। যদি ও মন খুলে একদিন কান্না করতে পারতো তাহলে ওর মন হালকা হয়ে যেতো। -- আচ্ছা আমরা যা বলি ও কি শুনতে পারে?...ও কি আমাকে চিনে? -- হ্যা..সব শুনে এবং সবই জানে। (২ জনই কিছুক্ষন চুপ করে বসে আছে,, হঠাৎ সুমন ফারিয়াকে বলে উঠলো--) -- হ্যাপি বার্থডে -- আপনার এখনও মনে আছে যে আজকে আমার বার্থডে -- এই দিন টা কিভাবে ভুলবো... আজকের এই দিনে বিকাল ৫:৩৫ মিনিটে প্রথম তোমাকে দেখেছিলাম... . [৮ বছর আগে] সুমন ওর বন্ধু রাকিবের সাথে রাকিবের এক বান্ধুবি অর্থাৎ ফারিয়ার বার্থডে পার্টিতে এসেছে। সুমন ফারিয়ার কাছে গিয়ে ওর বার্থডে গিফটটি দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে ফারিয়ার দিক চোখ পরে সুমনের...সুমন ফারিয়ার দিক তাকিয়েই রয়েছে। ফারিয়া হাত পেতে রয়েছে গিফটটা নেওয়ার জন্য কিন্তু সুমন তো ওর দিকে তাকিয়েই রয়েছে। তখন রাকিব পাশে এসে সুমন কে একটা আস্তে ধাক্কা দিয়ে বললো...আরে গিফটটা দে ওর হাতে...অতঃপর সুমন ওর হাতে গিফটটি দিলো...এরপর রাকিব ওদের ২ জন এর পরিচয় করিয়ে দিলো... . এরপর ফেসবুকে ফ্রেন্ডশীপ হলো তারপর চ্যাটিং শুরু হয়ে গেলো,,,ফেসবুকে চ্যাটিং,,মাঝে মাঝে ঘুরাঘুরি,,মোবাইলে কথা সব ভালোই চলতেছিলো...সুমন ফারিয়ার প্রতি যেমন উইক হয়ে পরেছিলো তেমনই ফারিয়াও সুমনের প্রতি উইক হয়ে পরেছিলো। ১ বছর পর -- আজকে ফারিয়ার বার্থডে। আজকের দিনটা সুমন অনেক স্মরণীয় করে রাখতে চায় কারন আজকের এই দিনে এক বছর আগে ফারিয়ার সাথে ওর দেখা হয়...তাই সে ঠিক করেছে আজকেই ফারিয়াকে প্রপোজ করবে। কিন্তু কিভাবে যে প্রপোজ করবে সেই সাহস টা পেতে ছিলো না। আসলে একজন ছেলের পক্ষে ভালবাসাটা যত সহজ কিন্তু ভালবাসা প্রকাশ করা অনেক কঠিন। আর মেয়েরা সেই ভালবাসা টা বুঝতে ঠিকই পারে কিন্তু যতক্ষনে ছেলেরা প্রকাশ না করে মেয়েরা চুপ করেই থাকে.। সুমনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়েছিল। তাই আজকে সুমন ঠিক করেছে ফারিয়াকে প্রপোজ করবেই। সুমন ফারিয়ার কাছে কিছু সময় চাইলো...একটা জায়গার নাম বললো যেখানে সন্ধা ৭ টার সময় ফারিয়াকে থাকতে বলেছে। সুমন সব ব্যবস্থা করে রেখেছে...একটা টেবিল,,দুইটা চেয়ার,,কিছু লাইটিং,,রোমান্টিক গানের ব্যবস্থা,,টেবিলের উপর কেক,,পকেটে রেখে দিয়েছিলো একটা আংটি...আংটি টি তো আর ফারিয়া দেখতে পারেনি কিন্তু এই ব্যবস্থা দেখে কিছু একটা মনে মনে ভেবে নিয়েছিলো। এরকম রোমান্টিক ভাবে প্রপোজ পাওয়াটা সকল মেয়েদেরই সপ্ন থাকে..। ফারিয়া আসার পর সুমন ওকে বসতে বললো। বসার পর ফারিয়া সুমনকে বললো -- তোমার সাথে একটু কথা ছিলো আমার -- বলো -- আসলে আমি একজনকে খুবই ভালোবাসি...তোমাকে এ কথাটা বলবো কইরা অনেক দিন পর্যন্ত কিন্তু বলা হয়নি...কিভাবে যে বলবো বুঝতে পারতে ছিলাম না... সুমন শুধু ফারিয়ার দিকে তাকিয়েই আছে..কি বলবে কিছু বুঝতেই পারছিলো না। শুধু চোখ দিয়ে পানি পরতে ছিলো। ফারিয়ার সামনে বসে কান্না করতে পারতো না তাই ফারিয়াকে বললো আমি একটু আসতেছি..সুমন উঠে কিছু দূর যাওয়ার পরই পিছন থেকে ফারিয়া ডেকে উঠলো...এই যে সুমন সাহেব কোথায় যাচ্ছেন?...এদিকে এসে আমার সামনে দাড়ান। সুমন ওর সামনে আসার পর ফারিয়া হাটু গেরে বসে বললো... -- I love u...আপনি কি আমার সাথে সারাজীবন থাকতে রাজি আছেন..? আমার সেই ভালবাসার মানুষটা যে আপনি। সুমন এখন আবার কি বলবে খুইজা পাইতে ছিলো না..এখনো চোখ দিয়া পানি পরতে ছিলো কিন্তু এবার খুশির কান্না ছিলো.. --আসলে আমি চেয়েছিলাম যে আমি তোমাকে প্রপোজ করবো। আমি চাইনি যে তুমি সারাজীবন আমাকে বলো যে তুমি আগে প্রপোজ করেছো... তাই আমি আগেই প্রপোজ করেছি। সুমন ফারিয়াকে এবার উঠিয়ে জরিয়ে ধরে বললো... সারাজীবন তোমাকে এভাবে জরিয়ে ধরে থাকতে চাই...। . #To_be_continue
No comments yet