অপেহ্মার প্রহর
হ্যালো, শ্রেয়া? হ্যালো, কে বলতেছেন? আপনি কি শ্রেয়া? না। সরি! রং নাম্বার। আবার কিছুক্ষন পর আবার কল করলাম। হ্যালো, ফারিয়া? হ্যালো, কে আপনি? আর কোথায় ফোন করেছেন? আপনি কি ফারিয়া? নাহহ।। কেটে দিলো।এখন আর কল করলাম না। রাতে আবার ফোন করলাম? ও হ্যালো, আমি শ্রেয়া,ফারিয়া,নুসরাত কেউ না। বারবার ফোন করে আমাকে বিরক্ত করতেছেন।(ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই) আসলে ঠিক তা না। তা না মানে? আমি এখনি আপনার নাম্বার বল্ক করে দিতেছি। থাক আর কষ্ট করতে হবে না। আর এই ফোন থেকে কখনও কল যাবে না। এই বলে কেটে দিলাম। চলুন পরিচয়টা দিয়ে দেয়, আমার নাম আবির, Ssc Xm দিয়েছি। রেজাল্টের জন্য wait করতেছি। আর যার সাথে ফোনে কথা বললাম সে, মুন New10 এ পরতেছে। মেয়েটি দেখতেও যে রকম সুন্দর আর তার ভয়েসটাও খু্ব সুন্দর। প্রথম পরিচয়টা একটা একসিডেন্টের পর থেকে হয়। আমার বন্ধু সোহান মুনের Boyfriend।বন্ধুর Girlfriend তবে কখনও আমাদের পরিচয় হয় নি।সোহান ও মুন দুজনেই রিলেশানের ব্যপারটা গোপন রেখেছিলো।তাদের রিলেশান ছিলো প্রায় ৩ বছরের মতো।Class6 থেকে তাদের পরিচয় আর রিলেশানটা হয়েছিলো class8 এ এসে। ★★★★★★★★★★★★★★★★ ★★★★★★★★★★★★★★★★ রাতে ঘুমোতে একটু দেরি হয়েছে।অনেক ঘুম পাইছে।তাই ঘুমিয়ে পরলাম। সকাল বেলা ফোনটা বেজে উঠলো। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ফোন খুজতেছি। চোখ দুটো যেন ছেড়ে দিতে চাচ্ছে না।কয়েকবার ফোন করার পর রিসিভ করলাম, হ্যালো,,, দোস্ত,এখনো ঘুমাইতেছিস? আরে,ফোন করেছিস কেন? সেটা বল? দোস্ত,খালার বাড়ি যাচ্ছি,তুই যাবি? ধুর,সকাল সকাল কি ফাইজলামি শুরু করছিস? দাখ দোস্ত, একা একা যেতে মন চাচ্ছে না। তুইও চল না রে?তাছাড়া তোকে অনেক মিস করবো রে,প্লিজ চল না? আই মিস ইউ টু,এখন ঘুমাইতে দে। ওক্কে, কথাটা মনে রাখিস! সমস্যা নেই কল রেকর্ড হচ্ছে। ফোন কেটে দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পরলাম।আম্মুকে আগেই বলেছি আজ যেন আমাকে ডাক না দেয়। বেচারা সোহান একা একা চলে গেলো। যাওয়ার সময় যেন কোনো সমস্যা না হয় তাই সোহান একটা ট্রাষ্কি বুক করছে। সকাল ১০টার সময় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে স্কুলের দিকে গেলাম।আজ school যাবো না তাই ঘুম থেকে উঠতেও দেরি হয়েছে।আবিরকে ফোন করবো, পকেটে হাত দিয়ে দেখি ফোন রেখে আসছি,কারও দেখা পাচ্ছি না।তাই আবার বাড়িতে গেলাম!ফোন হাতে নিয়ে দেখি সোহান ১৩টা মিসড কল।আমি ফোন করবো,তার আগেই আবার কল আসলো, রিসিভ করতেই, সালাম দিলো কিরে ভুতের মুখে আবার রাম রাম, হ্যালো, সোহান আপনার কে? হ্যালো, কে বলেতেছেন? সোহান কি আপনার বন্ধু? হ্যা কিন্তু আপনি কে? আসলে আপনাকে একটা খবর দেওয়ার ছিলো, জি বলুন? এখানে একটা একসিডেন্ট হয়েছে।ছেলেটার ফোন ভেঙ্গে গিয়েছে সিমটা ভালো ছিলো,মোবাইলের বাক কভার থেকে জানতে পারি ছেলেটার নাম সোহান।ড্রাইভার সেখানেই মারা গিয়েছে,আহত ছেলেটার অবস্থা খুব একটা ভালো না। আপনি তার পরিবার কে অতি তারাতারি খবর দিন। যখন শুনলাম সোহানের একসিডেন্ট হয়েছে।আমার হাত পা যেন কাঁপতে শুরু করে দিয়েছে। বিশ্বাস করতে পারতেছিলাম না। কি করবো মাথা কাজ করতেছে না।নিচে গিয়ে বাইক নিয়ে সোহানের বাড়ি যাচ্ছি,ভাবতেছি কি বলবো ওদের? কি করে এইটা তাদের সামনে গিয়ে বলবো? জানি না কি বলবো, হাজারো কথা ভাসতেছে। তারাহুরা করে বাড়ি গিয়ে খবর দিলাম। পরিবারের একটাই মাএ ছেলে সোহান না ছিলো ছোট বোন না কোনো ভাই। চারিদিকে যেন এক শোকের ঢেউ নেমে এলো। ফোন করলাম, লোকটি জানালো সোহান কে হসপিটালে নেওয়া হয়েছে। আমি আর দেরি করলাম না। সোহানের বাবা ও আমি বাইক নিয়ে রওনা দিলাম সেখানে।এদিকে তার মা ও আরও অনেকে একটা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে, মুন তখন স্কুলে ক্লাস করতেছে। সে তো জানে না সোহানের কি অবস্থা। যদি সে জানতে পারে পাগল হয়ে যাবে!জানানোর মতো কেউ ছিলো না। যদিও ছিলো কিন্তু তাদের ব্যপারটা কেউ জানতো না। চলবে,, #গল্প #অপেক্ষার_প্রহর★ পর্ব_১
No comments yet