গল্পঃমিথ্যা অভিযোগ/ধর্ষক
#গল্পঃমিথ্যা অভিযোগ/ধর্ষক #লেখা:safwan #পর্ব ১১ আপু যেন চিনতে না পারে তাই মুখে হাত আত মাথা নিচু করে আছি। -- এই তুমি আসিফ না?(মাইশা আপুর কথা সুনে, রিমি,আশা,আংকেল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে) হয়ত ভাবছে মাইশা আসিফ কে চিনে কি করে।ওদের কি পর্ব পরিচয় ছিল? -- ভাবি তুমি আসিফকে চিনো?(আশা) -- হুম চিনি ত অনেক আগে থেকেই?(মাইশা আপু মনে হচ্ছে আজ সব ফাস করে দিবে।।আমার মনে হচ্ছে এতে করে নিজের ই ক্ষতি হতে পারে) -- কিভাবে চিনো আসিফ কে?(আংকেল) -- আসলে আসিফ আমার ভাবির চাচাতো ভাই।কি হয়েছে আসিফ তুমি মুখ লুকিয়ে কেন?(মাইশা আপু আর কিছু বাকি রাখলো না।।) -- আপনি বলেন,,আমি সুনছি?(ভাংগা ভাংগা গলায় বললাম) -- তোমার ভাবির চাচাতো ভাই,,,?ব্যাপার টা পরিস্কার করে বলো ত?(আংকেল) --,, হুম ভাবি আমার কাছেও কেমন ঘোলাটে লাগছে।(আশা) -- আংকেল আমি বলছি?প্লিজ একটু অন্যরুমে চলুন?(অন্য রুমে যেতে চাইলাম কারন আংকেল কে বুজিয়ে বলতে পারবো।আর আমার মনে হয় মাইশা আপু আমার অপবাদের কথা কিছুই জানে না।জানলে হয়ত আমার পরিচয় দিত না।) -- কেন আসিফ এখানে বলো....তোমার সাথে আমার প্রায় ২ বছর পর দেখা,,,সুনেছি বাসা থেকে কোথাও চলে গেছো।।কারো কোনো খোজখবর নাই।(মাইশা আপু) -- আপু দেখা যেহেতু হইছে কথা ও হবে,,,আর বাসা থেকে চলে আসার কারনটাও বলবো?(আমার মনে হয় এইরকম একটা রাত কে এইসব কথার মাধ্যমে নষ্ট না করাই ভালো) -- আসিফ এখানে বল ভাবির সাথে তোর কিরকম সম্পর্ক?(আশা) -- সুন তাহলে,, তোর ভাবির সাথে আমার পরিচয় প্রায় ৪ বছর।সুমি আপুর বিয়ের পর থেকে।কারন তোর ভাবি সুমি আপুর ননদ।আর আমি সুমি আপুর চাচাতো ভাই।(কিছু করার নাই সব কিছু বলাই লাগতো।নয়তো একটা মিথ্যা টানতে টানতে হাজারটা মিথ্যা চলে আসতো) -- তাহলে মিথিলা,,,,(রিমি চিন্তার ভাব নিয়ে) -- মিথিলাতো আমার ভাইয়ার আপন শালিকা।(মাইশা আপু) -- আচ্ছা আপু,,পরে কথা হবে অনেক রাত হইছে?ভালো থাকবেন?(বলেই সবাইকে বাহিরে নিয়ে আসলাম) সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে এদের মনে হাজারো প্রশ্ন জমে আছে।আমরা সবাই আশার রুমে গিয়ে বসলাম?আংকেল আমার সাথে ঘটে যাওয়া বিষয় টা জানে।তাই ভয়টা বেশি,,,,আশাকে আমি বুজিয়ে নিতে পারতাম কিন্তু আংকেল কে? -- আসিফ,,মাইশা কি তাহলে তোমার দুলাভাইয়ের বোন?(আংকেল) -- জ্বি আংকেল?(আস্তে করে) -- এই রকম একটা চরিত্রহীন ছেলের বোন আমার বাড়ির বউ হয়ে এসেছে?আগে জানলে কখনো এইরকম ভাইয়ের বোনকে বউ করে আনতাম না।(আংকেলের ভাব ভংগিমায় রাগ দেখা যাচ্ছে) -- আংকেল মাইশা আপু অনেক ভালো,,,।আর ওনার ভাইয়ার চরিত্র খারাপ বলে আপুর চরিত্র খারাপ হবে ব্যপারটা কিন্তু এরকম না।,,আপনি মাথা ঠান্ডা রেখে কয়েকদিন সব কিছু দেখুন।দেখবেন আপু সবার মন জয় করে ফেলেছে।।।আর ভাইয়ার শাস্তি বোনকে দিয়েন না প্লিজ।।(আংকেল কে বোজানো যতটা কঠিক ততটাই সহজ।শুধু কথায় যুক্তি থাকতে হবে) -- মাইশা জানে,,,তার ভাইয়ার এমন চরিত্র?(আংকেল) -- মনে হয় জানে না।।এই ব্যপারটা শুধু আমাদের বাসার মধ্যেই আছে।আর আপনাদের বলছিলাম,,।আর আপু জানলে ত আমাকে খারাপ ছেলে ভেবে এইভাবে চিনে ফেলার সাথে সাথে বলতো না,,আমার পরিচয়।(আমি) -- হুম বুজলাম,,,,আমিও দেখি,,কয়েকদিন?মেয়ে ভালো হলেই হলো ফেমিলি জাহান্নামে যাক?(আংকেল) -- ধন্যবাদ আংকেল,,,ভালো কথা বলেছেন,।।আপুর ফেমিলি আপনার সংসার করবে না আপুই করতে হবে।।(আমি আংকেল কে সাপোর্ট করলাম) -- আসিফ আমি কি ভাবিকে এইসব বলবো,,তার ভাইয়ার চরিত্র তোকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া।(আশা) -- না,,,বলিস না।কারন এ কথা সুনলে আপুর চোখে তার ভাই ছোট হয়ে যাবে।ছোট হয়ে যাবে তোদের কাছে আপু নিজেই। যার অন্যায় সেই ভুগ করবে?(আমি) -- আচ্ছা ঠিক আছে?(আশা) -- হুম এখন কাউকে কোনো কিছু বলার দরকার নাই।যদি মাইশা জিজ্ঞাস করে আসিফের চলে আসার কারন জানিস কিনা।বলবি আমাদের এখনো বলে নাই।(আংকেল) -- অকে আব্বু।(আশা) -- আচ্ছা আংকেল অনেক রাত হইছে,,বাসাত যেতে হবে?(রিমি) -- আংকেল বিয়ের বেজাল পর্যন্ত আমি আর আসছি না।আপুর ফেমেলির কেউ দেখলে প্রবলেম হতে পারে।(আমি) -- আচ্ছা সাবধানে যেও?(আংকেল) আশাদের বাসা থেকে রিমিদের বাসায় যেতে পাচ মিনিটের রাস্তা।।তাই হেটেই চলছি? -- আসিফ তোমার বিয়ে বাড়ি থেকে চলে আসার কারন টা তাহলে এটাই ছিল?(রিমি) -- হুম আমি অইখানে আব্বুকে,,মিথিলাকে দেখতে পেয়েছিলাম।আর সুমি আপুর শশুড় বাড়িত আমি চিনতামই?(আমি) -- আমাকে বললে না কেন?(রিমি) -- সরি রিমি মিথ্যা টা বলার জন্য,,আমি চাই নাই আমার জন্য তোমার বিয়ের আনন্দ টা নষ্ট হয়ে যাক।(আমি) -- তোমার মনে হয়,,তোমাকে ছাড়া বিয়েতে খুব আনন্দ কাটিয়েছি?(রিমি) -- জানিনা,,তবে আমার কিছু করার ছিল না।এখন ভয় হচ্ছে,, আংকেল,,আশা,আর মাইশা আপুকে নিয়ে।।ওরা ঠিক ঠাক থাকলেই হয়।(আমি) -- আসিফ,,,(রিমি) -- বলো? (আমি) -- আব্বুকে বলে রাখি আমি তোমাকে ভালোবাসি?(রিমি হঠাৎ এই কথা কেন বললো) -- আমাকে বাসা থেকে বের করার বুদ্ধি করছো,,।আমরা এখনো অনেক ছোট। হয়ত ঘটনা গুলো অনেক বড় করে দিয়েছে।। -- যদি আব্বু কারো সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলে।যদি তোমাকে না পাই?বাচবো না আমি।(রিমি) কত ভালোবাসে মেয়েটা,,,আমি এখনো রিমির ভালোবাসার কোনো রেস্পন্স দেই নাই।খারাপ নজরে তাকাই নাই।কারন রিমি আমার না ও হতে পারে। শুধু ভালোবাসা সবসময় জয়ী হয়না।তার সাথে সমতা থাকতে হয়।।হুম টাকা পয়সা,নাম ডাকের।আর আমার কিছুই নাই।(কথা গুলো ভেবে চোখের কোনে পানি জমে গিয়েছে) -- এরকম কিচ্ছু হবে না,,শুধু আমাকে কিছু একটা করতে দেও?(আমি) আমরা বাসায় চলে আসলাম,,,আংকেল আন্টি জেগে আছে টিভি দেখছে।। আমরাও গিয়ে বসলাম। আর আশার ভাবি,,দুলাভাইয়ের বোন,,সব কিছুই বললাম। আংকেল ও বলেছে, ভাইয়ের চরিত্রের কারনে বোন কে শাস্তি দেওয়া ঠিক না। আংকেলের সাথে কথা বলে,,,ঘুমুতে চলে গেলাম,,,ফ্রেশ হয়ে সুয়ে আছি।। ঘুম হচ্ছে না,,মাথায় শুধু একের পর এক চিন্তা ডুকছে।মাথাটাও ব্যাথা করছে। ভাবছি আমার জন্য ত অনেকের অনেক ক্ষতি হয়েছে।শুধু মানুষের ভালো করতে গিয়েই।মিথিলা,দুলাভাইয়ের ভালো করতে গিয়ে নিজের খারাপ করলাম।।ভাবির খারাপ হয়েছিল।।এখন না জানি আমার কারনে মাইশা আপুর কোনো ক্ষতি হয় কিনা।।আমি যদি সেখানে না যেতাম,,,তাহলে হয়ত কেউ মাইশা আপুর ভাইয়ার চরিত্রের কথা জানতো না। এখন আশার পরিবার মাইশা আপুর সাথে ভালো হলেও মাইশা আপুর পরিবারকে ঘৃনার চোখে দেখবে।আর জগড়া হলে সব কিছু ফাস।। এইসব ভাবনায় ঘুম হয়নি,,সকালে একটু চোখ টা লেগে ছিল।।।নাস্তার জন্য রিমি ডেকে গেছে।,,,চোখ কচকাতে কচলাতে উঠলাম,,ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম।খাবার খেয়ে,,কলেজে যাবো,,,প্লান ছিল। আশা,আমি আর রিমি আশার ভাবির বাড়িতে যাবো ভাইয়ার সাথে। কিন্তু এখন শুধু আশাই যেতে হচ্ছে। রিমিকেও বলছি রিমি যাবে না। রেডি হয়ে কলেজে যাচ্ছি,,রিমি নাকি আজ যাবে না।একাই যাচ্ছি।।রাস্তার পাশে একটা লোককে দেখলাম পরে আছে ,,।আমি লোকটি কাছে গিয়ে দেখলাম ওনার পা দিয়ে রক্ত পরছে।কিন্তু এই ক্ষত টা কিভাবে হলো।।লোকজন এসে এসে দেখে চলে যাচ্ছে।সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না কেউ।।কারন লোকটি ছিল পংগু,,,ভিক্ষা করে গরিয়ে গরিয়ে পথ চলে,,জামা কাপড়ে ময়লা।দুর্গন্ধ আসছে খুব।।।কিন্তু মানুষ মানুষেএ জন্য।।লোক্টিকে কোলে তুলে,,একটা রিকশা নিয়ে হাসপাতলে ছুটলাম। রাস্তার লোক জন তাকিয়ে ছিল আমার দিকে,,এইরকম একটা লোক কে কি করে কোলে নিলাম।। হাসপাতালে যাওয়ার পর,,,ডাক্তার প্রথমে ডুকতে মানা করছিল,,।কিন্তু এটা সরকারি হাসপাতাল, সবার সমান অধিকার। এইসব গরিবদের জন্য এই হাসপাতাল গড়ে তোলা।।।এই কথা গুলো যখন জোরে জোরে বলছিলাম।।।ডাক্তার চিকিৎসা না দিয়ে পারে নাই।।।তবে লোকটি কান্না করছিল।।হয়তো ব্যথার কান্না।।। -- চাচা ব্যথা লাগছে?(আমি) -- না রে বাজান,,কোন মা তোরে জন্ম দিছে,,যে আমার মতো নোংরা লোকটাকে কোলে করে হাসপাতাল নিয়ে আসলি।।সেই মা ধন্য?(চাচার কথা সুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না।একদিন আমার মা বলেছিল,,কোন পাপে তোরে পেটে ধরেছিলাম) -- চাচা,,কিভাবে এমন হলো?(আমি) -- ভিক্ষা করার জন্য যখন গরিয়ে পথ চলছিলাম।পায়ে কাচ ভাংগা ডুকে যায়।।অনেক কষ্টে বের করি,,,লোকজন আমাকে সাহায্য করতে এসে আমার ভিক্ষার টাকা গুলোও নিয়ে যায়।।(চাচা কাদতে থাকে) --এই নেও চাচা,,তোমার ঊষুধ,, আর এই টাকাটা রাখো। (পকেটে তিন হাজার টাকা ছিল। চিকিৎসা ফ্রি তেই।।উষুধ কিনে দিয়ে।কয়েকদিন চলার মত টাকা।দেই।কারন এইসব লোকের জন্য ভিক্ষা ছাড়া চলার মত অন্যকোনো উপায় নাই।আর এই অবস্থায় ভিক্ষাও করতে পারবে না।) চাচা টাকা গুলো পেয়ে আমার গালে, মাথায় হাত রেখে দোয়া করছে।।।চাচাকে তার বস্তিতে পৌছে দেই।। কলেজে আর যাওয়া হয়নি,,কাপড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।গোছল করে,,কাপড় পরিষ্কার করে।রুমে সুয়ে আছি।রিমি আসলো। --আজ কলেজে যাও নাই?(রিমি) -- না ভালো লাগছিল না,?(আমি) -- আশা এসেছিল,,,আশার ভাবি নাকি তোমার সাথে কথা বলতে চায়?(রিমি) -- এখন সম্ভব না,,,বিয়ের ভেজাল টা শেষ হওক কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হতে পারে । (আমি) -- আচ্ছা বলে দিব।।।(রিমি চলে গেলো।) আমি ঘুমিয়ে আছি।।রাতে ঘুম হয় নাই,,, এভাবে চলে গেলো পাচ দিন,,,আশাদের বাসায় এক মুহুর্তের জন্য যাই নাই।। সন্ধ্যার দিকে,,রিমি এসে বললো আশা এসেছে,,সাথে আশার ভাবি,,রিমি কথা শেষ না করতে।।। আশা,,মাইশা আপু,, আর তাদের সাথে সুমি আপু অ? সুমি আপু কে কেন নিয়ে এসেছে? চলবে,,,,
No comments yet