read.cash Log in
@Safwan more from that month

অবহেলা

অবহেলার শেষ পরিণতি পর্বঃ১০ মিমি তাদের বাসায় দুইদিন থেকে তার পরের দিন চলে যায়। বাড়িতে গিয়ে দেখে সবাই নিরব হয়ে আছে দেখে ভাবিকে জিজ্ঞেস করল __ভাবি বাড়ির সবাই এমন নিরব কেন (মিমি) __মিমি সব আশা এখন শেষ হয়েছে (ভাবি কান্না করে) __কেন কি হয়েছে (মিমি) যেদিন তুমি বাসায় চলে গেলে। সেদিন রনি কিছু একটা খুজতেই হঠাৎ তার বেনটিউমার রিপোর্ট টা পেয়ে যায়। আর পাগলের মতো কথা বলা শুরু করে দেই। কিছুক্ষন আগে পাগলামি করতে করতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। তো কিছু না ভেবে তাকে হাস্পাতালে নেওয়া হই (ভাবি) হঠাৎ ভাবি এমন একটা কথা বলে উঠলো যেটা শুনে মিমি টাস করে ফ্লোরে বসে পড়ল আর অঝোর ধারায় চোখ থেকে জল ছাড়তে শুরু করলো...! তারপর কোনো কিছু না ভেবে হাস্পাতালে চলে গেলো। আর সেখানে গিয়ে লক্ষ্য করল অজ্ঞান অবস্থা সুয়ে আছে তার পাশে ভাইয়া মা আপু তারা বসে কান্না করছে তাদের এই অবস্থা দেখে মিমি আরও ঘাবড়ে সেখানে গিয়ে দারাতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো সবাই সেখানে থাকার কারনে মিমিকে ধরে ফেললো কিছুক্ষণ পর মিমির অজ্ঞান ফিরে নিজে হাস্পাতালে ব্যাডে আবিষ্কার করল।আর লক্ষ্য করল তার শাশুড়ী মা কাছেই বসে আছে। হঠাৎ মিমি অস্থির হয়ে তার শাশুড়ী মাকে বলল মা ও এখন কেমন আছে প্লিজ আমাকে এক্টু ওর কাছে নিয়ে যান (মিমি অস্থির হয়ে) বউ মা শান্ত হও প্লিজ!আমার ছেলের কিছুই হইনি (মা) মা আপনি সত্যিই বলছেন তো (মিমির অজানা এক ভয়ে বলতে লাগলো) হ্যা মা কিচ্ছু হইনি আমার ছেলের (মা) তাহলে আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন প্লিজ (মিমি) বেস তারপর মিমিকে সে ক্যাবিনে নিয়ে যাওয়া হলো। মিমি তার স্বামী কে দেখেই অঝোর ধারায় চোখ থেকে জল ছাড়তে লাগল। আর নিজেকে শর্তবার গালি দিলো যে তার দেওয়া অভিশাপের জন্যই আজ তার স্বামীর এমন অবস্থা... মিমি এসব আনমনে ভেবে নিজেই অনেক অনুতপ্ত হচ্ছে এরমধ্যে ডাঃ এসে বলতে লাগলো এই রোগীর পরিবার জন কোথায় ...? (ডাঃ) ডাঃ আমাকে বলতে পারেন (মিমি) আপনি রোগীর কি হন (ডাঃ) স্ত্রী (মিমি) অহহ আচ্ছা তাহলে আপনাকে বলা যেতে পারে (ডাঃ) জি বলুন (মিমি) আপনার হাসবেন্ড মানুষিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছে। এসময় তাকে আজে বাজে চিন্তা থেকে বিরত রাখুন আর হ্যা সব সময় হাসি খুশিতে রাখুন কেন না এই রোগী কখন কি হয়ে যেতে পারে তার কোনো গ্যারান্টি নেই আবার আল্লাহর রহমতে ভালো ও হতে পারে (ডাঃ) ডাঃ ভালো হবার কি কোনো চান্স নেই (মিমি অসহায় দৃষ্টিতে ডাঃ কে জিজ্ঞেস করল) দেখুন বেনটিউমার রোগী সাধারণত ১০০ % এর মধ্যে ২০ % রোগী বেচে যায়। বলা তো যায় না আপনার স্বামী ভালো অপারেশন করতে পারলে বেচে যেতে পারে (ডাঃ) হ্যা ডাঃ খুব জলদি অপারেশন করে ওকে সুস্থ করে তুলুন (মিমি) ১ মাস পর তার অপারেশন করা হবে। ততদিন তাকে বাড়িতে হাসি খুশিতে রাখবেন।আর হ্যা ওনি কিন্তু মানুষিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছে সেদিকে এক্টু লক্ষ্য করবেন যাতে কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে (ডাঃ) হ্যা ডাঃ অবশ্যই তাকে টেক কেয়ার করব (মিমি) এই বলে ডাঃ চলে গেলো...! তারপর একদিন থেকে বাড়িতে রিলিজ করে দিলো। এখন সে ও জানতে পেরেছে তার কি মরনবেদি রোগ হয়েছে। আর সেই রোগ থেকে হাতে গুনা দুই একজন বাচতে পারে এ ভেবে সে অনেক্টাই মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েছে। খাবারের প্রতি তার এক্টু আগ্রহ নেই আর সবসময় মন খারাপ করে চুপচাপ হয়ে থাকে এ দেখে মিমি অনেক্টাই কষ্ট পেতো আর বলতো... আচ্ছা তুমি যদি এভাবে সবসময় মন খারাপ করে থাকো তাহলে সেটা আমার কাছে কেমন লাগে বলেতো (মিমি) __নিশ্চুপ (আমি) __কি হলো জবাব দাও (মিমি) হঠাৎ মিমিকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো মিমি আমি অনেকদিন বাচতে চাই এত তাড়াতাড়ি তোমাদের কে ছেড়ে যেতে চাই না (কান্না করে) তোমার কিচ্ছু হইনি ডাঃ এমনি একটা কথা বলল আর সে কথা নিয়ে তুমি এখনো ধরে আছো (মিমি তার স্বামী কে মিথ্যা আশাস দিয়ে ) মিমি কেন সত্যটা গোপন রাখছো (আমি) নিশ্চুপ (মিমি) আমি হইত বেশি দিন বাচতে পারবো না। একথা একবার ভাবলে কেমনে জানি প্রথমে ইসানের কথাটা আগে মনে পড়ে...! শুধু মাত্র তোমার আর ইসানের জন্য আমি অফিসের টুরে যাওয়া বাদ দিয়েছিলাম কেন জানো (আমি) নিশ্চুপ (হয়ে মিমি কান্না করে যাচ্ছে) সেখানে গেলে এক সপ্তাহে মতো তোমাদের কে না দেখে থাকতে হবে এ এভেবে যায়নি। কিন্তু নিয়তি এখন আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে সেখানে তোমাদের কে কাউকে দেখতে পারবো না (কান্না করে) তার বলা কথা গুলো শুনে মিমির কলিজায় রক্ত ক্ষনন হতে লাগলো। সে কোনোভাবে নিজেকে শান্ত রেখে কথা বলতে পারছে না।চোখ থেকে শুধু অঝোর ধারায় জল ফেলছে দেখে তার হাসবেন্ড বলে উঠলো মিমি তুমি কেন কান্না করো। তাছাড়া তোমাকে খুব শক্ত হতে হবে। কত দায়িত্ব পড়বে তোমার উপর। এসব কিছু তোমাকে একা সামলে নিতে হবে। (আমি) বেস মিমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না। তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাই ভেঙে পড়ল আর বলতে লাগলো প্লিজ আর এসব বলে আমাকে কষ্ট দিয়েও না এমনিতেই অনেক কষ্টের মধ্যে রয়েছি (মিমি কান্না করে) বাস্তব কে যে মেনে নিতেই হবে (একথা বলতেই আমার ও চোখের পানি অঝোর ধারায় গড়তে থাকলো মিমি আমার এমন অবস্থা দেখে বলতে লাগলো তুমি আর এক ফুটা চোখের জল ফেলতে পারবে না (এই বলে মিমি তার স্বামীর চোখের পানি মুছে দিলো) আমি তো চোখের জল ফেলতে চাই না তারপর ও কেন জানি আটকাতে পারি না (আমি) কে কি বলল না বলল সে নিয়ে তুমি এত ভেঙে পড়লে চলবে না। তোমাকে ও শক্ত হতে হবে (মিমি) হ্যা চেষ্টা করবো! কদিন ধরে ইসান কে ভালোভাবে দেখছি না যে (আমি) ইসান মার কাছে আছে (মিমি) মিমি তুমি অনেক চালাক হয়ে গেছো তাই না... (আমি) চালাক হয়েছি মানে (মিমি) এখন থেকেই ইসান কে আমার কাছ থেকে আলাদা করে অভ্যাস করাছো যাতে ওখানে গিয়ে আমি না দেখতে পারি (আমি) তুমি এসব কি বলছো (মিমি) আমি বুঝতে পারছি তোমরা সবাই এখন আমাকে পর ভাবতে শুরু করেছো (আমি) কিসব অলক্ষুণে কথাবার্তা বলছো তাছা ড়া তোমার মন মানুষিকগতা ভালো নেই দেখে ইসান কে এক্টু সরিয়ে রেখেছি (মিমি) তুমি ভালোই করেছো কি দরকার এত মায়া বাড়িয়ে যে মানুষ টা এই পৃথিবীতে কিছু দিনের অতিথি মাত্র। তার কাছ থেকে সন্তান কে আড়াল করাই ভালো (আমি) মিমি তার স্বামীর কথা গুলো সহ্য করতে না পেরে চিৎকার মেরে বলতে লাগলো হ্যা আল্লাহ তুমি তোমাকে এ কেমন বিপদে ফেলে দিলে এক না পারছি জোরে কান্না করতে আরেক না পারছি তাকে শান্তনা দিতে ( মিমি এসব বলে মাথা হাটুর উপর রেখে কান্নাই ভেঙে পড়ল ... মিমির এমন অবস্থা দেখে বললাম মিমি এইদিকে তাকাও (এই বলে মিমির চোখের জল মুছে দিলাম) মিমি কোনো কথা না বলে তার মতো কান্না করে যাচ্ছে মিমি কেন একটা খারাপ মানুষের জন্য কান্না করছো। যেই মানুষটা তোমার লাইফ শেষ করে দিয়েছে (আমি) আমি তো অতীতের কথা গুলো ভুলে গেছি তাহলে এখন এসব বলছো (মিমি) তুমি ভুলে গেলেও উপরে একজন যে ঠিকই আছেন তিনি ই তো সব করছেন। নইত কি আর আমার এমন রোগ হই (আমি) নিশ্চুপ (মিমি) জানি না কার অভিশপ্তে আমার ভাগ্যে এমন রোগ হয়েছে (আমি) তুমি থামবে প্লিজ (মিমি) দেখলে তো পাপ করার শেষ পরিনতি কি হই। তারপর ও তোমার কাছে আমার ক্ষমা চাইতে হবে কি ক্ষমা করবেনা আমাকে...?(আমি) জানি না সত্যি কথাটা বললে তুমি কেমন রিয়াক্ট করবে কিন্তু না বলে থাকতে পারছি না (মিমি) সমস্যা নেই তোমার যা বলার আজ বলে ফেলো (আমি) একটা সময় আমিই তোমাকে অনেক অভিশাপ দিয়েছে। কিন্তু কখনো কল্পনা ও করতে পারেনি যে তার পরিনতি এমন হবে। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও প্লিজ আর কখনো তোমাকে অভিশাপ দিবো না (মিমি এই বলে কান্নাই ভেঙে পড়ল) কথাটা শুনে বুকের পাশে কেমনে জানি চিনচিন ব্যথা করতে শুরু করল।আর নিজেকে কোন রকম শান্তনা দিয়ে মিমিকে বললাম তুমি উচিত কাজটাই করেছো। তূমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে সে হইত এমন অভিশাপই দিতো। যাই হক মহান আল্লাহ তাআলা তোমার কথা শুনেছে। (আমি) এখন তোমাকে ছাড়া ও যে আমি বাচতে পারবো না। বটো ভালোবাসে ফেলছি তোমায় (মিমি) মিমি আজ আমিও অনেক খুশি নিজের করা পাপের ফল পাচ্ছি।কিন্তু একটা কথা ভেবে নিজের মনকে শান্তনা দিতে পারছি না (আমি) তুমি আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও আর কখনো তোমাকে অভিশাপ দিবো কথা দিচ্ছি (মিমি কান্না করে) এখন এসব বলে কি হবে। তোমার কথা তো মহান আল্লাহ তাআলা লিখেই ফেলছেন (আমি) হঠাৎ মিমি আমাকে এমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল আমি কখনো ভাবিনি আমার বলা কথা গুলো এমন সত্যিতে রুপান্তরিত হবে। তাছাড়া আমি ও যে তুমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলছি।তোমাকে ছাড়া আমার কি হবে (মিমি কান্না করে) আজ মিমির অভিশাপ দেওয়ার কথা শুনে বুকে বা পাশে চিনচিন ব্যথা অনুভব করতে লাগলো। শুধু একটা কথা ভেবে খারাপ লাগছে এতকিছু পড়ে ও মিমি আমাকে অভিশাপ দিয়েছে। এসব ভেবেই মিমিকে আমার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলতে লাগলাম এখন মিথ্যা ভালোবাসার কথা বলে কি হবে। তোমার সঠিক বিচার তো পেয়েই গেছো (আমি) হঠাৎ আমার কাছ থেকে এমন কথা শুনে অবাক হয়ে আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো... যেই আমার কাছে কথা বলতে আসবে ঠিক তখনই তার কথা না শুনে বাহিরে চলে আসলাম....! ! ! (চলবে)

1 comment

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.