1st love
#প্রথম_ভালোবাসা পর্ব -- ৪৪ #safwan -- তোর খুব মরার শখ তা।।কাউকে না জানিয়ে তুই আরামসে মরতে চাচ্ছিলি।।তোর তো কারো কথা ভাবারই সময় নেয়।।।আমরা তো তোর কেউ না।।প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছিলো।তোকে ছেড়ে যাওয়ার প্রতিশোধ তাইতো।। আমাকে কি তোর মানুষ বলে মনে হয় না বল।।।তুই কি করে পারলি এত বড় একটা কথা কাউকে না বলতে।।জানিস যখন ডাক্তার আমাকে রিপোর্ট গুলো পড়তে দিল।আমার অবস্থা কি হয়েছিল।।পুরো দুনিয়া মনে হয় অন্ধকার হয়ে আসছিল আমার কাছে।।কোনো মতে নিজেকে সামলিয়ে ছি।। কিন্তু না তুই কেন আমার কথা ভাববি।তুই তো আমাকে ভালোবাসিস না। তুই তো এই বিয়েটা মানিস না।। কেন আমাকে বললি ন এতদিন।। -- আহান প্লিজ শান্ত হোন।আমি আপনাকে বলতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পেরে উঠতে পারছিলাম।। -- এই চুপ কর। ন্যাকামো বন্ধ কর।।একদম আমার সামনে এইসব ন্যাকামো কান্না কাদবি না।।কেন কাদছিস।। -- আহান।আমার কথাটা তো শুনেন প্লিজ।। -- কি শুনবো বল।কি শুনার আছে।।ডাক্তার কি বলেছে জানিস,,, কেন আরো আগে তোর চিকিৎসা শুরু করে দিলাম না।বল আমি কি জানতাম।। কেন তুই আমাকে আগে কিছু জানাস নি।। --আহান আমি সবায় কে বলতে চাচ্ছিলাম।কিন্তু আমি চাই নি সবায় জেনে অযথা কষ্ট পাক।।তাই বার বার বলতে চেয়ে ও বলতে পারি নি।। কি করে সবায় কে বলতাম যে।।আমার মাথার মধ্য ধীরে ধীরে টিউমারের উৎপত্তি হচ্ছে।। যাকে বলে ব্রেন টিউমার।।যার চিকিৎসা নিলে বাচার সম্ভাবনা খুবই কম।আমি তো জানতাম সবায়কে বলতে অপারেশন এর জন্য লেগে যাবে।।আমি চাই না অপারেশন করতে।।এইভাবেই যতদিন বেচে থাকতে পারি সবার সাথে হাসি খুশি জিবন টা কে কাটাতে চায়।।আমি চাই না আমার জন্য কারো কষ্ট হোক তাই বার বার বলতে চেয়েও কাউকে বলতে পারি নিই।।সাদিয়া আপুর বিয়ের পর এখানে আসার ৪ /৫ দিন পর রিপোর্ট গুলো চোখে পরে।।তারপর রিপোর্ট গুলো দেখে আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো না।। চোখের পানি বাধ মানছিল না তখন।।ক্লিয়ার হওয়ার জন্য।আবার ডাক্তার দেখাই এবং রিপোর্ট একি আসে।।ডাক্তার অপারেশন এর কথা বলেছে।।কিন্তু বাচার চান্স খুবই কম এই সব অপারেশন এ।আর বাংলাদেশ এ এর ব্যাবস্থা তেমন ভালো না তাই আর আমার কাছে তেমন টাকা ও নেই যে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিব।তাই আমি চাই নাই এইসব কাউকে জানাতে।। -- খুব বড় হয়ে গেছিস তাই না।।এত বিড় হয়ে গেছিস যে কাউকে তোর দরকার নেই। তাই এত বড় ডিসিশন তুই একা নিয়ে নিলি।।যে অপারেশন করবি।।।এই আমার যে এত টাকা আছে সেগুলো দিয়ে আমি কি করবো বল। যদি প্রিয় জনের জন্য না লাগে।। তোকে ভালোবাসতে বাসতে লায় দিয়ে ফেলেছি।।কিন্তু আর না তুই যে কাজ করেছিস এর কোনো ক্ষমা হয় না।।কখনো আমি তোকে ক্ষমা করবো না।। কিছুতেই না আহান মাহিরাকে আকড়ে ধরে প্রলাপ বকেই যাচ্ছে।।এবার মাহিরা অনেকটা রেগে আহানকে বলতে লাগলো। -- কি শুরু করছেন আপনে কখন থেকে আহান।।মরে তো যাই নি এখনো।।মরার পরে না হয় আপনার এইসব পাগলামি শুরু করিয়েন।। আহান মাহিরার কথা শুনে এক মুহুর্ত দেরি না করে মাহিরার গালে চর বসালো।।। -- খুব শখ না তোর মরার।।। খুব শখ।।তোকে আমিই মারবো। তিলে তিলে তোকে শেষ করবো।।খুব শখ না আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার।।আমার থেকে মুক্তি তুই কখনো পাবি না এইটা মনে রাখিস।।।আজ যতটা কষ্ট আমি পেয়েছি এর থেকে দ্বিগুণ কষ্ট আমি তোকে দিব।।। বলে আহান মাহিরা কে খাটের উপর ছুড়ে মেরে ব্যালকনিতে চলে যায়।।আর মাহিরা নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলেই যাচ্ছে।। এখন মাহিরার মনে হচ্ছে আহান কে আগে বলে দিলে ভালোও হতো।এতটা কষ্ট ও আহানকে পেতে হত না।। গভীর রাত হয়ে গেছে।।মাহিরা এখনো বিছানার কোনায় শুয়ে আছে আর আহান এখনো ব্যালকনিতেই আছে। আহান এই নিয়ে ২ প্যাকেট সিগারেট খাওয়া শেষ করে ফেলেছে।। কষ্ট গুলোকে ভুলার জন্যই আহান এই পদ্ধতি অবলম্বন করছে।।। মাহিরা বিছানায় শুয়ে থাকতেই একসময় ঘুমিয়ে পরে।।।আহানে ভোর হওয়ার একটু আগে রুমে আসে এসে দেখে মাহিরা ঘুমিয়ে আছে।।মাথায় বালিশ নেই।।আহান মাহিরার কাছে এসে।।অনেকক্ষন মাহিরার দিকে তাকিয়ে থেকে মাহিরাকে বালিশে শুয়ে দিয়ে যে গালে চর দিয়েছিল সে গালে নিনের হাতের পরশ একে দিল তারপর আলতো করে চুমু খেল।।। -- তোমাকে এর শাস্তি আমি দিয়েই ছাড়বো মাহি।।।আমার সাথে তুমি এটা ঠিক করো নিই।।বলেই ওয়াসরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে।।। আহান ফ্রেশ হয়ে এসে সোফায় শুয়ে পরলো।।।ঘুম নেই তাও একটু শুয়ে নিল।সকালে চট্টগ্রাম যাবে তাই এখন একটু রেস্ট দরকার এই ভেবেই...... (চলবে......)
No comments yet