যেই 'মা' সন্তানকে এমন তালিম দিবেন, সেই সন্তান কি কখনও নষ্ট হয়ে যেতে পারে?
যেই 'মা' সন্তানকে এমন তালিম দিবেন, সেই সন্তান কি কখনও নষ্ট হয়ে যেতে পারে? "উযবেকিস্তানের ঘটনা। একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরী করতে গিয়ে পরিচয় হলো তার সাথে। কথায় কথায় অনেক কিছুই জানতে পারলাম। চোখ বড় বড় করে গড়গড় করে জীবনের সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো বলে যাচ্ছিল -আমরা স্কুলে যেতাম। রোজার দিনেও স্কুল বন্ধ রাখার জো ছিল না। রোযা রাখার তো প্রশ্নই নেই। গ্রামে কেউ রোজা রেখেছে জানতে পারলেই হয়েছে। সাথে সাথে লালবাহিনী এসে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলতো! স্কুলে বিণামূল্যে খাবার দিয়ে পরীক্ষা করা হতো, কে কে খাচ্ছে না! কেউ না খেলেই ধরে নেয়া হতো, সে রোযা রেখেছে। ব্যস! সাথে সাথে তার ঘরে লালবাহিনী হাজির! তারপরের কথা আর না বলাই ভাল! আমার আম্মু ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মহিলা। তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন কিভাবে স্কুলে গিয়ে নামায পড়বো! -বাছা! নামাযের সময় হলে দেরী করো না! -কিভাবে? স্যার ক্লাসে থাকেন যে! -তা থাকুন! উনি যখন বইয়ের দিকে তাকাবেন, তুমি চট করে আল্লাহু আকবার বলে ফেলবে। তবে অপেক্ষা করবে কখন তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে শুরু করেন। মনে মনে সূরা-কেরাত পড়বে। চেষ্টা করবে মাথা উঁচু-নিচু করে নামায পড়তে! তাও যদি না পারো, শেষচেষ্টা হিশেবে ভ্রুকে উপর-নিচ করে নামায পড়বে! রুকুর জন্যে একটু কম ঝোঁকাবে, সিজদার জন্যে বেশি! এভাবে নামায পড়লে আদায় হবে কি না জানি না! তবুও একেবারে না পড়ার চেয়ে, স্মরণে রাখার জন্যে, নামকাওয়াস্তে হলেও পড়া ভাল মনে করি! পরে বাড়ি এসে কাযা আদায় করে নিবে! কোনও অবস্থাতেই নামায ছাড়বে না!" ~
No comments yet