read.cash Log in
@NusratJahan

The Musical Journey of Darshan Raval

একদিন দর্শনকে একটা ইন্টার্ভিউতে একজন রিপোর্টার প্রশ্ন করেনঃ "স্যার, আপনার গানের গলা অসাধারণ, অনেকেই আপনাকে অরিজিৎতের বিকল্প হিসেবে ধারণা করে। অনেকে বলে নেক্সট অরিজিৎ। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?" দর্শনের জবাব ছিলঃ "ইন্ডাস্ট্রিতে অলরেডি একজন অরিজিৎ আছে। তার কখনো বিকল্প হতে পারে না। অরিজিৎতের বিকল্প একমাত্র অরিজিৎ নিজেই। প্রত্যেক গায়ক-ই এক একটা অনন্য সত্ত্বা। কেউ কারো বিকল্প হতে পারে না। ইন্ডাস্ট্রি যদি আমাকে এক অনন্য দার্শন হিসেবে গ্রহণ করে তবে ওয়েলকাম। যদি অরিজিৎতের বিকল্প বা সেকেন্ড অরিজিৎ হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তাদের বলবো, ইন্ডাস্ট্রিতে অলরেডি একজন অরিজিৎ আছে।"

১৯৯৪ সালের ১৮-ই অক্টোবর, ভারতের এহেমদাবাদে লিখক রাজেন্দ্র রাভাল ঘরে জন্মগ্রহণ করেন দার্শন রাভাল। তার মা রাজল রাভাল একজন হাউজওয়াইফ। ছোটোবেলা থেকেই অনেক বেশি দুষ্টু স্বভাবের ছিলেন দর্শন। যার ফলে তাকে বার বার ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হতো, এমনকি সাস্পেন্ডও করা হয়েছিল স্কুল থেকে। কিন্তু লিখক বাবার হাতে ধরে ছোটো থেকেই কবিতা লিখায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন দর্শন, তিনি ছোটো ছোটো কবিতা লিখতেন, সেগুলোকে কম্পোজ করে তিনি গানের রূপ দিতেন আর নিজের লিখা গানগুলোকে গাইতে মন চাওয়া থেকেই তার মিউজিক্যাল জার্নির শুরুটা হয়। এবং মনস্থির করেন গায়ক-ই হবেন। পড়ালেখায় মন ছোটো থেকেই ছিল না তার। তারপরেও কোনোভাবে পড়ালেখা করে ইঞ্জিনিয়ারিং অব্ধি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও হয়ে গেল এক কাণ্ড। প্রশ্নপত্র লিক করার ফলে তাকে সাস্পেন্ড করা হয় কলেজ থেকে। তারপর তার বাবা তাকে জিজ্ঞেসা করে, বাবা দার্শন কেন এসব করছো? জবাবে সে বলে, বাবা আমার এসব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মন নেই। আমি গায়ক হতে চাই। তার বাবা বললো, কিন্তু এই ফিল্ড অনেক বেশি কম্পেটেটিভ। এখানে তুমি টিকে আসতে পারবে না।

এরপরেও দার্শন হাল না ছেড়ে একটা স্বাধীন ইউটিউব চ্যানেল খুলে বলিউডের গানগুলোর কাভার সং করতে থাকে, যার ফলে তার ফ্যান ফলোয়িং বাড়তে থাকে, বিভিন্ন স্থানে শো পেতে থাকে আর এভাবেই লাইফ চলতে থাকে তার। কিন্তু তার বড়ো কিছু করার ইচ্ছে ছিল। একদিন শো করে জমানো টাকা নিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইউ-এস ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছি। হঠাৎ কল আসলো, "দার্শন একটা রিয়েলিটি শো শুরু হতে যাচ্ছে, তুমি কি অংশগ্রহণ নিবে?" জবাবে সে বলে, "আমার এসব রিয়েলিটি শো ভাল্লাগেনা। আমি স্বাধীনভাবে গান গাইতে চাই।" তখন অপরপাশ থেকে বললো, "এই শোতে তুমি নিজের গান ও গাইতে পারবে, ভেবে দেখো।" এরপর সে শোর অডিশনের জন্য একটা ভিডিও বানিয়ে, (Pehli Muhabbat) সাবমিট করে চলে যায় ইউ.এস ঘুরতে। হঠাৎ একদিন কল আসে, "আপনাকে শর্ট লিস্টেড করা হয়েছে, অডিশন দিতে মুম্বাইয়ে চলে আসুন।" এরপর সে পরিবারের অমতের সত্ত্বেও পাড়ি জমায় মুম্বাইয়ে "India's Raw Star" শোতে অংশ নিতে। এরপর তার যুগান্তকারী মিউজিকাল জার্নি শুরু হয়। এবং সেই শো-তে রানার আপ হওয়ার পর পরিবারের সাপোর্ট ও পেতে থাকে সে। শো শেষে সবার ভালবাসা পেয়ে দার্শন ভেবেছিল এখন হয়তো লাইফ সেট হয়ে যাবে + ২০-২৫টা গান পেয়ে যাবেই।

কিন্তু তখনই আসলো আসল ধাক্কা। যেসব মিউজিক ডিরেক্টর'রা তাকে গান দিবে বলেছিল শো চলাকালীন, তাদের কাছে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হতো বিভিন্ন কথা বলে বা ব্যস্ততা দেখিয়ে। আর কেউ কেউ স্ক্র‍্যাচ সং করালেও আর ডাকাতো না। আর এভাবেই স্টুডিও'র চক্কর লাগাতে লাগাতে একটা সময় সে ভাঙতে থাকে আর সিদ্ধান্ত নেয় আগের মতন শো করবে এহেমদাবাদ গিয়ে। কিন্তু তখন লাস্ট ট্রাই হিসেবে হিমেশকে কল দেয় দার্শন আর নিজের পরিচয় দিয়ে বলে স্যার আমি দর্শন, কোনো কাজ হবে কি? দার্শনকে অনেক কনফিডেন্স দিয়ে হিমেশ বলেছিল কাজ দিবে আর হিমেশ সেই কথা রেখে দর্শনকে স্টুডিওতে ডাকিয়ে নেয়। সে তখন জানতো না এইটা কোন মুভির গান বা কার সিনেমা। সে গান গেয়ে চলে যায় বাড়িতে। একদিন হঠাৎ সে খবর পায়, তার গানটা সালমান খানের, "Prem Ratan Dhan Payo" সিনেমার গান ছিল। এরপর একের পর এক হিট গান দিয়ে ভারতের Youngest Raw-Star এখন দর্শন। এই গল্প থেকে আমরা এটাই শিক্ষে পাই যে, "জীবনে কখনো হতাশ হবেন না।"

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.