ফাল্গুনী পাঠক, নব্বই দশকের লিজেন্ড
ভারতে জন্ম নেয়া এই গায়িকা ৯০ দশক মাতিয়েছেন দাপটের সাথে। নাইন্টিজ কিডদের শৈশব কেটেছে এই ফাল্গুনী পাঠকের মিউজিক ভিডিও দেখে। বয়কাট চুল, পোলো শার্ট, বক্সি জ্যাকেট, জিন্স, পায়ে কেডস আর হাতে জেন্টস রিস্টওয়াচ পরিহিত এই গায়িকা দ্রুতই সেনসেশন বনে যান।
ফাল্গুনী পাঠকের এই টমবয় ইমেজের পেছনে রয়েছে মজার গল্প। পাঁচটি মেয়ে হওয়ার পর ফাল্গুনীর মা যখন আবার কনসিভ করলেন, তার বাবা মা দুজনেই আশায় বুক বাধলেন যে এবার অন্তত তারা ছেলের মুখ দেখবেন। কিন্তু আবারও হলো মেয়ে। কিন্তু ফাল্গুনীকে তার বাবা, মা এবং তার পাঁচ বোন ছেলের মতোই বড় করতে লাগলেন। ছেলেদের পোষাক, হেয়ার কাটে অভ্যস্ত তিনি ছোটবেলা থেকেই। এই অভ্যেস তাঁর আর যায়নি।
'ইয়াদ পিয়া কি আনে লাগি' দিয়ে ফাল্গুনী ঝড় শুরু। তারপর অনেকগুলো হিট গান দিয়েছেন।সেই সময় এই গায়িকার মিউজিক ভিডিও সারাদিন চলতো Mtv, B4U সহ বিভিন্ন মিউজিক চ্যানেলে। সেই সময় বিচার করলে মিউজিক ভিডিওর নারী মডেলদের পোশাক যথেষ্ট কম ছিলো বলা যায়। সেটা একটা কারণ হতে পারে ভিডিও হিট হওয়ার। এছাড়া ফাল্গুনী পাঠক প্রতিটি মিউজিক ভিডিওতেই নিজে পারফর্ম করেছেন। তবে আপনারা (নতুন প্রজন্ম) যদি ভেবে থাকেন সেক্স আপিলযুক্ত ভিডিও দিয়ে মিউজিক হয়ত, তাহলে ভুল করবেন। প্রত্যেকটি মিউজিক ভিডিওতে আছে একটি গল্প। শর্ট ফিল্ম বলতে পারেন। ৯০ দশকের মিউজিক ভিডিও গুলো এমনই হতো।
তাহলে কি ফাল্গুনীর মিউজিক ভিডিওই সব? গানের কোয়ালিটি ভালো ছিলো না? এখানেই তো তিনি অনন্যা। উনার গানের কথা, সুর, টোটাল আয়োজন এবং সেই সাথে উনার হাই পিচ গায়কী। আহা.! অসাধারণ বললেও যে কম হয়। সেই সময় উনার 'ম্যানে পায়েল হ্যায় খানকায়ি' গানটা বাজেনি এমন বিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে খুব কম হয়েছিলো। বলিউড মুভিতে বেশি কাজ করেননি তিনি। দরকারও ছিলো না। ৯০ দশকের হিন্দি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি একটি স্বতন্ত্র সত্ত্বা পেয়েছিল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর নির্ভরশীল ছিলোনা।
এখন বেশিরভাগ কিংবদন্তি গায়ক গায়িকার মতো উনিও বলিউডে ব্রাত্য। এমনকি কোনো গানের রিয়ালিটি শোতেও উনাকে ডাকা হয় না। তবে উনি কিন্তু বসে নেই। বর্তমান বলিউডের জনপ্রিয় সিংগারদের থেকেও বেশি আয় করছেন শুধু গান গেয়েই। গুজরাটে উনি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়িকা। উনার প্লাস পয়েন্ট হলো উনার ভক্তিমূলক গান। গুজরাটে শুধু নবরাত্রি তে স্টেজ শো করে ২ কোটি রুপি আয় করার রেকর্ড আছে এই শিল্পীর। অবশ্যই একটি স্টেজে নয়, কয়েকটি। প্রতিটি শোতে উনি নেন সর্বনিম্ন ২২ লাখ রুপি। শত অবহেলিত হয়ে ধুঁকতে থাকা শিল্পীদের বিপরীতে ফাল্গুনী পাঠক এক অনন্য জ্বলজ্বলে তারকা।
No comments yet