Join 48,558 users and earn money for participation

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোর অজানা কথা: ফিনল্যান্ড থেকে নরওয়ে

0 9 exc boost
Avatar for Musso
Written by   73
3 months ago

ভূগোল (Geography) কার না ভালো লাগে?নানান দেশ সম্পর্কে জানতে,সেসব দেশের মানুষ,জীবন ধারা ,তাদের খাদ্যাভ্যাস ,তাদের সংস্কৃতি ,ভাষা ,ইতিহাস কিংবা ঐতিহ্য সবকিছু জানতে পারা যায় যায় জিওগ্রাফির জ্ঞান থেকে।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই নানান দেশ নানান মানুষ সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে।অনেকের পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখবার (Explore) ইচ্ছে আছে।আমার বরাবরই জিওগ্রাফি বা ভূগোল খুবই ভালো লাগে।

যদিও তা কখনো পূরণ করা সম্ভব হয় না কিন্তু খুব সহজেই আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে ঘুরে আসতে পারি।জেনে নিতে পারি নানান দেশ নানান মানুষ সম্পর্কে বইয়ের পাতা থেকে।

কোনো পাসপোর্ট লাগবে না,কোনো বাড়তি খরচ লাগবে না,কোনো ঝামেলা ছাড়াই বই পড়েই ঘুরে আসা যায় পৃথিবীর নানান দেশে।

চলুন আমরা আজকে ঘুরতে বের হবো।আমরা আজকে ঘুরে আসবো পৃথিবীর অপর প্রান্তের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান (Scandinavian) দেশ গুলো থেকে।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপের(Peninsula) ৫ টি দেশ কে একটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র বলে।

এই দেশ গুলো হচ্ছে:
১)ফিনল্যান্ড ২)ডেনমার্ক ৩)আইসল্যান্ড ৪) সুইডেন ৫) নরওয়ে

সবার আগে চলুন ফিনল্যান্ড থেকে ঘুরে আসি।

ফিনল্যান্ড:

ইউরোপের যে দেশটি সবার আগে নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছিলো সে দেশটি হলো ফিনল্যান্ড।

ফিনল্যান্ডের মানুষদের সাধারনত "ফিনিশ" বলা হয়ে থাকে।ফিনল্যান্ডের মানুষদের শিক্ষার হার অনেক বেশী।

আপনি কি জানেন পৃথিবীর সবচে বড় জাহাজ "হারমোনি অফ দ্যা সিস" (Harmony of the seas) কাদের নির্মাণ করা? উত্তর: ফিনল্যান্ড।

ফিনল্যান্ডের আরো একটু নাম আছে।হ্রদ বেষ্টিত এই দেশটির সৌন্দর্য্য নজর কাড়বে প্রতিটি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের।তাই প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন আর উপভোগ করেন এই দেশটির সৌন্দর্য্য।ফিনল্যান্ড কে সেজন্যে বলা হয়ে থাকে "হাজার হ্রদের দেশ" । ফিনল্যান্ডের মোট হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজারের মতো।কেমন লাগলো ফিনল্যান্ড?

এবার চলুন ঘুরে আসি আরেকটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ ডেনমার্ক থেকে।


ডেনমার্ক:

পৃথিবীর প্রতিটি স্বাধীন দেশের রয়েছে একটি পতাকা।একটি দেশের স্বাধীন সার্বভৌমত্বের প্রতীক সে দেশের পতাকা।

কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীর কোন দেশটি সবার আগে এই জাতীয় পতাকা প্রণয়ন করেছিলো?চিন্তা করুন তো।

পৃথিবীর সর্ব প্রথম জাতীয় পতাকা প্রণয়ণ করে ডেনমার্ক।শুধু তাই নয় আমরা নানান রকম লোগোর সাথে পরিচিত।

বিশ্বের প্রথম লোগো প্রস্তুতকারক দেশটিও কিন্তু ডেনমার্ক।অসাধারণ!

পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড।এই দ্বীপটির মালিকানা রয়েছে ডেনমার্কের হাতে।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন,অবস্থিত জিল্যান্ড নামক একটি দ্বীপে।

ডেনমার্ক ইউরোপীয় দেশ হওয়া সত্বেও তারা নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহার করে থাকে।তাদের মুদ্রার নাম "ড্যানিশ ক্রোনা"।এই অপরূপ সুন্দর দেশটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন।

এবার চলুন চলে যাই আমাদের পরবর্তী স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ আইসল্যান্ডে।

আইসল্যান্ড:

আইসল্যান্ড নামে বরফের দেশ বা বরফে আচ্ছাদিত দেশ মনে হলেও আপনি কি জানেন আইসল্যান্ডের আরেকটি নাম "আগুনের দ্বীপ"?কারণ আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির (Volcano)
আধিক্য দেখা যায়।সেজন্যে এই দ্বীপ দেশটির নাম "আগুনের দ্বীপ"

মাঝরাত!শব্দটা বললে সাধারণত কেমন অনুভূতি হয়? চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার তাই না?কিন্তু কল্পনা করুন তো মাঝরাতে রাত তিনটার হঠাৎ করে আপনার ঘুম ভেংগে গেলো আর জানলায় দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন সূর্য জ্বলজ্বল করছে কেমন লাগবে তখন?এই দৃশ্য আইসল্যান্ডের মানুষদের কাছে চিরপরিচিত।এই অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হতে হলে আপনাকে চলে যেতে আইসল্যান্ডে।

সেজন্যে তাদের একটি আলাদা নাম ও আছে।আইসল্যান্ড কে সেজন্যে ডাকা হয় "মধ্যরাতের সূর্যের দ্বীপ"

আইসল্যান্ডের মানুষেরা ভাইকিং দের বংশ দর।অনেক বেশী সাহসী হিসেবে তাদের বেশ সুনাম আছে।একসময় ভাইকিং দের জাহাজ ঘুরে বেড়াতো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জলরাশিতে।

মধ্য রাতের সূর্যের দ্বীপ থেকে চলুন সুইডেন থেকে ঘুরে আসা যাক।

সুইডেন:

প্রতিবছর ঘটা করে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।  শিল্প সাহিত্য,শান্তি,চিকিৎসা,বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে জন কল্যাণকর কাজের স্বীকৃতস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিন্তু আপনি কি জানেন কোন দেশ থেকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে?সুইডেন থেকে প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম পরিচিত " Venice of the north" নামে।অন্যান্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোর মতো সুইডেনের নিজস্ব একটা পরিচিত আছে।

গোটা ইউরোপে প্রথম জাতীয় উদ্যান তৈরী হয়ে ছিলো সুইডেনে ১৯১০ সালে।

নর্ডিক রাষ্ট্র বা (The North) অর্থাৎ ইউরোপের উত্তর দিকের দেশ গুলোর মধ্যে আয়তনে সবচে বড় দেশটি হচ্ছে সুইডেন।

জন কল্যাণ কে লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী কাজ করে,বাস্তবায়ন করে এবং রাষ্ট্র গুলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলে।

আপনি কি জানেন পৃথিবীর কল্যাণ রাষ্ট্র কোনটি? পৃথিবীর সর্বপ্রথম কল্যাণ রাষ্ট্র হলো সুইডেন।

এবার চলুন ঘুরে আসি আমাদের শেষ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র নরওয়ে থেকে।

নরওয়ে

সুইডেন থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে নরওয়ে থেকে।নরওয়ে (Norway) কে বলা হয় "The way to the north"।

সংবাদ পত্র আমরা প্রায় সবাই প্রতিদিন দশ মিনিট হলেও পড়ি।প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও চোখ বুলাই।কিন্তু নরওয়েজিয়ান অর্থাৎ নরওয়ের নাগরিকেরা সবচে বেশী সংবাদ পত্র পড়েন।

একদম সর্ব উত্তরে অর্থাৎ উত্তরের শেষ বিন্দুতে যে শহরটি অবস্থিত তার নাম "হ্যামারফাস্ট"।নরওয়ের মানুষেরা মাছ ধরতে বেশ পটু।

মাছ ধরার উপরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।আইস ল্যান্ডের মতো এই দেশটির ও একটি নাম আছে। নরওয়েকে বলা হয়ে থাকে "The land of midnight sun" বা নিশীথ সূর্যের দেশ।

এই ছিলো আমাদের আজকের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোর ভ্রমণ।কেমন লাগলো আপনাদের জানাতে ভুলবেন না।

1
$ 0.09
$ 0.09 from @TheRandomRewarder
Sponsors of Musso
empty
empty
empty
Avatar for Musso
Written by   73
3 months ago
Enjoyed this article?  Earn Bitcoin Cash by sharing it! Explain
...and you will also help the author collect more tips.

Comments