Niribi
ইচ্ছে করে একদম তল্পিতল্পা গুটিয়ে গ্রামে চলে যাই। একদম নিরিবিলি মানব শুন্য কোথাও। যেখানে ছোটো একটা ঘর থাকবে, বিরাট উঠান আর উঠান ভর্তি গাছ, আর থাকবে পুকুর, গরু ছাগলের খামার। বৃষ্টি হলে টিনের চালে টুংটুং শব্দ হবে। একটা বই খুলে চায়ের সাথে সকালের মিষ্টি রৌদটা ডেইলি খেতে পারব। অনেক বেশি গরম লাগলে পুকুরে ঝাপ দিতে পারব। বেশি শীত লাগলে উনুন জ্বালিয়ে শাল গায়ে বসে কাপাকাপি করব। গাভীর দুধ আর মোটা চালের ভাত চটকে আমি খেতে পারব। গুড় চিনি না হলেও চলবে। আমের সিজনে নাহয় আমও চটকে নিব, সত্যি বলছি এই এক খাবারে আমার দিব্বি কেটে যাবে দিনের পর দিন। আমার খাবারে বাছবিচার নাই। কী মনে হচ্ছে? এসব ভাবনায় সুখ, বাস্তবে না? জগতবিচ্ছিন্ন হয়ে আমি সেখানে পড়ে থাকতে পারব। সত্যি বলছি সত্যিই পারব। কষ্ট হবে, কিন্তু তাও পারব, এখন এসি ফ্যান আছে দেখে গরম সহ্য হয়না, তখন এসি ফ্যান থাকবেনা তাই সব সহ্যও হয়ে যাবে। একটু বাহিরে গেলে গরমে চামড়া লাল হয়ে যায়, শীতে রুক্ষ হয়ে যায়, গ্রামে গেলে যে চামড়া লাল হতে হতে কালো হবে, রুক্ষ হতে হতে ফেটে চৌচির হবে তা জানি, তাও দিলে গ্রাম টানে, জন্ম থেকে আজ অবধি মানুষজনের কোলাহলমুক্ত আছি, কেমন একটা অভ্যস্ততায় পড়ে গেছি। এখন এভাবেই একা একা ভাল লাগে। মুরগির খাচার মত ঘরবাড়িগুলোতে বড় হয়েছি। যেখানে নাই জানালা, নাই বারান্দা, নাই ছাদ, নাই একটু হেঁটে বেড়ানোর মত ঘাসপথ। নাই একটুকও প্রকৃতি। রাস্তায় গিয়ে না দাঁড়ালে না দেখি রৌদ, না পাই বাতাস আর না পাই বৃষ্টির ছিটেফোঁটা। মাঝে মাঝে ভাবি, এমন কেন শহরের বাড়িগুলো? আল্লাহর দুনিয়ার সৌন্দর্যটা আসলে শহরে নাই। আছে গ্রামে। যেখানে এখনও প্রযুক্তির ছোঁয়া পড়ে নাই। মানুষ মাটির তৈরি। আর মাটির সাথে জড়িত প্রকৃতির সব কিছু। তাই হয়ত এই দিলটা মাটিতে লেগে থাকে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে লেগে থাকে। জগতবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাটা কষ্টকর। তবে মনে হচ্ছে একদিন সত্যিই এই প্রকৃতি আর মাটির মাঝে হারিয়ে যাব আমি। নবী রাসুলদের শহর এমন ছিল না, গ্রামের মতই ছিল, এর চেয়ে বড় ভাল লাগা আর কী হতে পারে? হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে আজ!
No comments yet