হালদা নদী, আমরা অনেকেই বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীকে চিনি। হালদা নদী বাংলাদেশের পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৬ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৩৪ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। সম্পূর্ন দৈর্ঘ্যের মধ্যে মাত্র ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত সারাবছর নৌকা চলে। হালদা নদীর সাথে অন্যকোনো নদী যেমনঃ পদ্মা, মেঘনা,যমুনার সাথে কোনো সংযোগ না থাকার জন্য এখানে রুই মাছের জিনগত কোনো পরিবর্তন ঘটে না। পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার তিথিতে যে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয় এ সময় ই মাছগুলো ডিম পারে এ নদীতে।আর মাঝিরা সেসব নিসিক্ত ডিমগুলোকে সংগ্রহ করে হ্যাচারি মালিকদের কাছে খুব ভালো দামে বিক্রি করে দেয়। তবে ডিমপাড়ার জন্য প্রচুর বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে হবে।তবে এ বৃষ্টি শুধু স্থানীয় এলাকায় হইলেই চলবে না, উজানের জায়গায় ও হতে হবে।ফলে নদীতে পাহারী ঢলের সৃষ্টি হয়।স্থানীয়ভাবে এই সময়কে "জো' বলা হয়। এই বিশিষ্ট সময়ে অনেক রুই,কাতলা,মৃগেল,কালিবাউস মাছ আসে হালদা নদীতে ডিম ছাড়তে।পূর্ণ জোয়ার বা ভাটার শেষে যখন পানি স্থির হয় তখনি মা মাছ আসে নদীতে ডিম পাড়ার জন্য। হালদা নদীতে রুই মাছের ডিম ছারার ভৌতিক,রাসায়নিক ও জৈবিক কারণ রয়েছে। ভৌতিক কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে নদীর বাঁক, অনেকগুলো নিপাতিত পাহাড়ী ঝর্ণা বা ছড়া প্রতিটি পতিত ছড়ার উজানে এক বা একাধিক বিল, নদীর গভীরতা, কম তাপমাত্রা, তীব্র খরস্রোত এবং অতি ঘোলাত্ব। রাসায়নিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম কন্ডাক্টিভিটি, সহনশীল দ্রবীভুত অক্সিজেন ইত্যাদি। জৈবিক কারণগুলো হচ্ছে বর্ষার সময় প্রথম বর্ষণের পর বিল থাকার কারণে এবং দুকুলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীর পানিতে প্রচুর জৈব উপাদানের মিশ্রণের ফলে পর্যাপ্ত খাদ্যের প্রাচুর্য থাকে যা প্রজনন পূর্ব গোনাডের পরিপক্কতায় সাহায্য করে। ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে মা মাছ নিজের ভেতরেই ডিমগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। #বাংলাদেশ
4 comments
হালদা নদীর অনেক নাম শুনেছি। ইলিশ মাছ নাকি এখানেই আসে? নাকি কি জেন মাছ! ভুলেই গেছি
ইলিশ না। কার্প জাতীয় মাছগুলো আসে এখানে ডিম পাড়ার জন্য।যেমন: রুই,কাতলা,কালিবাউস ইত্যাদি।
ও! হ্যা, মনে পড়ছে, কার্প জাতীয় মাছ। তবে মনে হয় ওরা ডিম পারার আগেই ধরে ফেলে হাহা
হাহাহাহা। না এখন নিষিদ্ধ করে দেয় মাছ ধরা ডিম পাড়ার সময়টাতে।