রোমান্টিক অত্যাচার
🔥💕রোমান্টিক অত্যাচার💕🔥 ৫ম পর্ব দুপুরের খাবার খেয়ে নিহান ঘরে চলে আসলো। নিহান আর দাদুর খাওয়া শেষ হওয়ার পরে.. নূরও খাওয়া শেষ করে যখনই ঘরে ঢুকতে যাবে তখনই নিহান নূরকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। নিহান হঠাৎ করে এইভাবে ধরায় নূর ভয়ে পেয়ে যায়। নূর ভীত স্বরে নিহানকে বলল,,, নূরঃ কি হয়েছে?? নিহানঃ দাদুকে তুমিই অফিসের কথা বলেছো.. ঠিক নাহ?? নূরঃ হুম.. আমিই বলেছি। নিহানঃ কেনো বলেছো?? আর আমি তোমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবো নাহ.. এতো খুশি হওয়ার কিছু নাই। দাদু কথাটা বলেছে তাই আর নাহ করতে পারি নাই। নূরঃ তাহলে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে?? নিহানঃ কেনো আমার কাজিন আর তোমার বেষ্ট ফ্রেন্ড রুহিকে নিয়ে। কথাটা বলেই নিহান হেসে দেই। কিন্তু নূরের চেহেরা রাগে লাল হয়ে গেছে। নিহানের সেইদিকে খেয়ালই নেই। নূরঃ কিহহহহহহ.. তুমি আমাকে রেখে রুহির সাথে ঘুরতে যাবা!! ওই নিহানের বাচ্ছা.. আজকে তুই শেষ!! লুইচ্চা পোলা.. ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে ঘুরতে যেতে চাই!! নিহান নূরের কথা শুনে নূরের দিকে তাকিয়ে তোহ পুরা খিস খাইয়া গেছে। নূরের চেহেরা টমেটোর থিকা বেশি লাল হয়ে গেছে। এই কথা বললে যে নূর এতোটা রেগে যাবে নিহান কল্পনাও করতে পারি নাই। নূর নিহানের কলার চেপে ধরে,,, নূরঃ কুত্তা.. বিলাই.. বান্দর.. এইদিকে আয়। বলেই নিহানের শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে বিছানায় নিয়ে ফেলল। বিছানা ধাক্কা দিয়ে ফেলে নূর নিহানের বুকের উপর উঠে বসল। বসে ইচ্ছা মতন মারতাছে। নিহানঃ জানু.. সরি!! ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো এইসব বলবো নাহ!! আমি ব্যাথা পাচ্ছি.. প্লিজ ছাড়ো নাহ!! নূরঃ নাহ.. আজকে তোমাকে মেরেই ফেলবো!! তুমি আমাকে রেখে অন্য একটা মেয়ের সাথে ঘুরতে যেতে চাও.. কত বড় সাহস তোমার?? এই পোলা রুহিরে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার এতো শখ কেনো?? রুহি কি আমাকে থেকে বেশি সুন্দর?? যদি রুহিকে আমার থেকে বেশিই সুন্দর মনে হয়.. তাহলে রুহিকে বিয়ে করলি নাহ কেনো?? এই কথা বলেই নূর নিহানের বুকে মুখ লুকালো। নিহান বুঝতে পারছে নূর কান্না করছে। নিহান নূরকে উপর থেকে ফেলে দিয়ে নিহান নূরের উপরে উঠে গেলো। নূরের উপরে উঠে.. নিহান নিজের মুখ একদম নূরের কানের সামনে নিয়ে গিয়ে,,, নিহানঃ সত্যিই আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি৷ অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে। তোমাকে নিজের করে পাবার জন্য কত কিছু করেছি জানো?? নিহান নূরের একদম কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কথাগুলি বলল। নিহানের নিশ্বাস নূরের কানে উপরে পড়ায়.. নূর বার বার কেপে উঠছিলো। নিহান আবার বলতে শুরু করল,,, নিহানঃ তোমার এখনো অনেক কথা জানা বাকী আছে.. আজকে তোমাকে সব বলবো। কিন্তু তার আগে একটু আমার সুন্দরী বউটার সৌন্দর্যের মজা নেই। কথাটা বলেই নিহান নিজের মুখটা কানের কাছ থেকে সড়িয়ে নূরের মুখ বরাবর এনে নূরের নাকের সাথে নিজের নাকের ঘসা দিলো। নিহান নূরের এতোটাই কাছে যে.. নিহান নূরের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। নূর অনেক জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিচ্ছে.. যার ফলে নিহানের বুক অনেক জোড়ে জোরে উঠানামা করছে। নিহান নূরকে টান মেরে নিজের আরও কাছে এনে.. তারপরে নিজের ঠোঁট দিয়ে নূরের ঠোঁট জোড়া চেপে ধরল। নূরও নিহানকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিহানের কিসে রেসপন্স দিচ্ছে। নিহান অনেকহ্মন পরে নূরের ঠোঁট ছেড়ে দেই। নূর নিজের ঠোঁট দিয়ে নিহানের মুখে আর গলায় কিস করে লাল বানায় দিছে আবার কামড় দিচ্ছে মাঝে মাঝে। নিহান আর সয্য করতে নাহ পেরে আবার নূরের মাথা তুলে নিজের ঠোঁটের সাথে নূরের ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। একটু পরে ছেড়ে দিয়ে,,,, নিহানঃ অনেক হয়ছে!! এইবার তোমাকে আমি কিছু বলতে চাই... নিহানের কথা শুনে অনেকটাই হতাস হয়ে নিহানের দিকে তাকালো নূর। নূর মনে মনে ভাবছে,,, নূরঃ আজকেও তুমি আমাকে সম্পূর্ণ ভাবে কাছে টানলে নাহ?? আর কতদিন এইভাবে আমাকে এই অত্যাচার গুলি করবে?? এই রোমান্টিক অত্যাচার গুলি যে আমি আর সয্য করতে পারছি নাহ?? আমি তোহ সম্পূর্ণ ভাবে তোমার ভালোবাসা পেতে চায়। আমাকে পূর্ণ করতে চাই তোমাকে দিয়ে। কখনো কি আমার সপ্ন পূরন হবে নাহ?? নূর মনে মনে এইসব কথা ভাবছিলো.. হঠাৎ করে নিহানের ডাকে হুসে ফিরে,,, নূরঃ হুম বলো.. কি বলবে?? নিহানঃ তোমার মনে আছে আমাদের প্রথম দেখার কথা??? নূরঃ হুম.. মনে আছে। তুমি প্রথম দিনই আমাকে মিথ্যা কথা বলেছো। আবার তোমার নাম লুকিয়েছো!! আচ্ছা.. ওইদিন তোমার নাম নীল কেনো বলেছিলো?? নিহানঃ তোমাকে পাবার জন্য এই মিথ্যা কথা গুলি বলেছিলাম। জানো.. দাদু প্রথম যেদিন তোমার ছবি আমাকে দেখেছিলো!! সেদিনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম.. যে করেই হোক তোমাকে নিজের করবোই। তোমার অনেক অহংকার ছিলো.. এইটাও দাদু আমাকে বলেছে!! নূরঃ ইহহহহহহ.. আমার কোনো অহংকার নেই!! নিহানঃ হুহ.. আহংকার ছিলো নাহ দেখেই তোহ আমার বন্ধু হতে চাও নি। আর কিছু হলেই ভাব দেখাইতা। জানো.. তোমার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করার জন্য আমার রুহির সাথে প্রেমের নাটক করতে হয়েছে। কত কষ্ট করে যে তোমাকে আমার বউ করেছি.. তাহ শুধু আমিই জানি। নূরঃ এমন সুন্দরী বউ পেতে হলে.. একটু-আধটু কষ্ট করতেই হয়। আপনিও নাহ একটু করছেন। নিহানঃ ওইইইইই!! নূরঃ কিহ?? নিহানঃ এখন আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চাই!! নূরঃ ঘুমাতে চাও তোহ ঘুমাও!! এতো ভদ্র হয়লা কবে থিকা.. অনুমতি নিয়ে কাজ করো?? নিহান আর কোনো কথা নাহ বলে মাথাটা বলিশ থেকে তুলে নূরের বুকের উপরে রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল। নূর নিহানের মাথা হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নিহানের মোবাইলটা সশব্দে বেজে উঠল। চোখ একটু লেগেই গিয়েছিলো নিহানের.. কিন্তু ফোনের রিংটোনে ভেঙে গেলো। তড়িঘড়ি করে মোবাইলটা সাইলেন্ট করল নিহান। মোবাইলটা সাইলেন্ট করে নূরের দিকে তাকাল নিহান.. নূরের গুটিসুটি মেরে একেবারে নিহানের বুকের ভিতরে ঢুকে ঘুমাচ্ছে। নিহান ভাবছে,,, নিহানঃ কি ব্যাপার?? আমি নূরের বুকে ঘুমাচ্ছিলাম.. এখন ঘুম থেকে উঠি দেখি.. নূর আমার বুকে ঘুমাচ্ছে.. কাহিনী কি?? নিহান এইসব ভেবে একটু হেসে নূরের কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো। নিহানের এসব করার মধ্যে আবার ফোনটা বেজে উঠল। এইবার ভালো মতন ফোনের স্কীনে তাকিয়ে দেখল রুহি ফোন করছে। নূরকে আস্তে করে বালিশে শুইয়ে দিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল নিহান। কলটা রিসিভ করে মোবাইলটা কানে ধরতেই,,, রুহিঃ ওইইই.. কি করছিলে?? এতোহ্মন সময় লাগলো কেনো ফোন ধরতে??? নিহানঃ নূরকে বুকে নিয়ে শুয়ে ছিলাম.. তাই তোমার ফোন দেখি নাই। রুহিঃ কিহহহহ?? নিহান.. তুমি সত্যি সত্যিই কি আমাকে ভালোবাসো?? নিহানঃ নাহ!! রুহিঃ তাহলে আমাকে বলেছিলো কেনো বিয়ে করবো?? নিহানঃ তোমার সাহায্য নাহ পেলে.. আমি কিছুতেই নূরকে বিয়ে করতে পারতাম নাই। সরি.. আমাকে হ্মমা করে দিও.. তোমাকে এইভাবে ব্যাবহার করার জন্য। আমি প্রথম যেদিন নূরকে দেখি.. ওইদিনই ওকে ভালোবাসে ফেলি। ওর যাগাটা অন্য কাওকে দিতে পারবো নাহ!! হ্যাঁ' আমি নূরের উপরে অনেক রোমান্টিক অত্যাচার করি কিন্তু তারপরেও ওকে অনেক ভালোবাসি। আমার দাদুর কথা নাহ রাখার জন্য আর আমার সাথে ভাব নেওয়ার জন্য ওকে এইসব শাস্তি দিচ্ছি। রুহিঃ নিহান.. প্লিজ স্টপ!! তুমি আমাকে ঠকিয়েছো?? আমাকে ব্যাবহার করে.. এখন দূরে ফেলে দিচ্ছো?? আমি কখনো তোমার ভালো হতে দিবো নাহ?? মনে রেখো আমি প্রতিশোধ নিবো। বলেও রুহি ফোনটা কেটে দিলো। নিহান ফোনটা হাতে নিয়ে ভাবছে.. 'রুহি এইসব কি বলল'?? নূর অনেকক্ষণ যাবৎ খেয়াল করছে নিহান কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। নূর ঘড়িতে আর একবার তাকিয়ে দেখল প্রায় ২০ মিনিট হয়েছে নিহান ফোনে বলছে। নূর ভাবছে.. নূরঃ নিহান এত সময় ধরে কার সাথে কথা বলছে?? রাগারাগি করছে আবার মাঝে মাঝে হাসছেও.. ঘটনা কি?? সকালেও দেখলাম.. কার সাথে জানি লুকিয়ে প্রেমআলাপ করছে। নিহান.. কি তাহলে আরেকটা প্রেম করছে?? খুব অস্বস্তি নিয়ে বিছানায় শুয়ে ওকে লক্ষ্য করেছে নূর। প্রায় ২৫মিনিট পর নিহান কথা বলা শেষ করে রুমে ঢুকল। নিহান রুমে ঢুকে নূরকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসি দিলো। নিহানের এই হাসিটা নূর বরাবরই খুব পছন্দ করে কিন্তু ঠিক এই মুহুর্তে নিহানের এই হাসিটা নূরের বুকে গিয়ে বিঁধছে। নূরঃ কার সাথে কথা বলছিলে?? নিহানঃ আরে রুহির সাথে। নূরঃ রুহির সাথে কি এমন কথা বলছিলে তাও আবার এত হাসাহাসি করে?? নিহানঃ নূর.. তুমি এভাবে কথা বলছো কেনো?? আর রুহি আমার কাজিন.. ওর সাথে হেসে কথা বলবো নাহ তোহ কি কান্না করে কথা বলবো?? নূরঃ শুনো নিহান.. সকালেও তোমাকে ফোনে কথা বলতে শুনেছি আমি.. তখন তোমাকে কিছু বলি নাই। এখন আবার হাসিহাসি করে কথা বললে?? সবসময় যে তুমি ছাড় পাবা.. এইটা কিন্তু হবে নাহ?? নেক্সট এইরকম কিছু দেখলে আমি দাদুকে বলতে বাধ্য হবে। নিহানঃ দাদু বলবা মানে?? নূরঃ তুমি দিন রাত একটা মেয়েদের সাথে প্রেমালাপ করবা.. আর আমি তোমার বউ হয়ে চুপচাপ এইসব দেখবো!! তুমি কি আমামে বলদ ভেবেছো?? একটা মেয়ের সাথে তোমার এতো কিসের কথা?? নাকি আবার আমাকে রেখে রুহির প্রমে পড়ে গেলা?? তুমি তোহ রুহির সাথে প্রেমও করেছো.. এক্স গফ কি আবার লাইফে ব্যাক করেছে নাকি??? নিহানঃ মুখ সামলে কথা বলো!! এইসব কি বলছো?? ছিঃ.৷ তোমার কি একটুও বিশ্বাস নেই আমার উপরে?? নুর আর কিছু নাহ বলে চুপচাপ শুধু ভাবল,,, নূরঃ আমি আরো অনেক কথা বলতে চাই কিন্তু এখন তোমার সাথে ঝগড়া করতে চাচ্ছি নাহ। আর এখন ঝগড়া লেগে কালকে ঘুরার প্রোগ্রামটা বাতিল করা যাবে নাহ!! আগে চট্রগ্রাম থেকে ঘুরে আসি পরে তোমার প্রেম করা বের করছি। এইসব মনে মনে ভেবে রাগে লাল হয়ে বিছানা থেকে উঠে ওয়াসরুমে চলে গেলো নূর। আর নিহান বলদের মত দাঁড়িয়ে আছে। নিহান দাঁড়িয়ে ভাবছে... -- “ সালার কি থেকে কি হয়ে গেলো??” চলবে,,,,,, ♥বেশির ভাগ পাঠক-পাঠিকাই বলছে নূর নামটাই ঠিক আছে,, তাই আর চেঞ্জ করি নাহ,, আর আমি দুঃখিত একটা বড় ধরনের সমস্যার কারনে ২দিন গল্পটা দিতে পারিনাই,, আজকে অনেক কয়টা পর্ব দিব।আর পর্ব গুলো বড় করে দিবো,,,এইটা মোটামুটি অনেক বড় করে দিয়েছি,,, আর গল্পটা কেমন হয়ছে জানাতে ভুলবেন নাহ কিন্তু??
3 comments
এ ধরনের গল্প করতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়। তাই গল্পটি অনেক সুন্দর ছিল।
কিছু কিছু মানুষ নিরবে ভালোবাসে আবার কিছু কিছু মানুষ রাগে রাগে ভালোবাসে। শুধু একটু কষ্ট করে সেটা খুঁজে বের করতে হবে,,, প্রতিটা মানুষেরই ভালোবাসার অধিকার আছে
গল্প যেমন সুন্দর তেমনি গল্প এর নাম ও সুন্দর।