গল্প_ঝির_বৃষ্টির_প্রেম
#গল্প_ঝির_বৃষ্টির_প্রেম। আজ দিয়ার সাথে প্রথম দেখা করবো তাও ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে।কথা ছিল পরীক্ষা শেষে দুজন এক সাথে বাড়ি যাবো।আসলে দিয়া আর আমি একই কলেজে পড়তাম,আমি যখন উচ্চমাধ্যমিক দিবো তখন দিয়া মাত্র দশম শ্রেণি শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে।আমাদের কলেজে মেয়েদের সকালে আর ছেলেদের দুপুরে ক্লাস হতো এই সুবাদে মেয়েদের ছুটির সময় প্রায় দিয়াকে দেখতাম কিন্তু তেমন ভাবে কখনোই লক্ষ করিনি।একদিন ফেসবুকিং করছিলাম হঠাৎ একটা একাউন্ট থেকে বন্ধুত্বের অনুরুধ আসলো,আর একাউন্টে দেওয়া প্রোফাইলটা খুব চিনা চিনা লাগছে আর প্রোফাইলটা এত্তো পরিমাণ এডিটিং করা ছিল যে, মেয়েটাকে চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে।যাক একটু যেহেতু চিনতে পারছি তাই কিছু না ভেবেই বন্ধুত্বের অনুরুধটা গ্রহন করলাম। বন্ধুত্বের অনুরুধ গ্রহণ করতেই দেখি মেয়েটার একাউন্ট থেকে একটা মেসেজ।হয়তো মেয়েটা হয়তো আমাকে চিনে,আচ্ছা কথা বলে দেখা যাক। মেয়ে:ভাইয়া কেমন আছেন? আমি:ভালো,তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারছি না। মেয়ে:ভাইয়া আমি আপনাদের কলেজেই পড়ি। আমি:তো,এতো এডিটিং করে ছবি দিছ কেনো?তুমি যানো?অনেক কষ্ট করার পরও আমি তোমায় চিনতে পাড়িনি। মেয়ে:ভাই আসলে.............. আমি :আচ্ছা বাদ দেও, তোমার নাম কি? মেয়ে:দিয়া,ভাইয়া আপনার নাম? আমি:মামুন। এই ভাবে প্রায় প্রতিদিন অনেক সময় ধরে কথা হতো।কিন্তু সামনাসামনি কখনোই কথা হয়নি।মাঝে মাঝে কলেজ ছুটির পর দেখা হতো, দিয়া আমায় দেখলেই আড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসতো তবে কেউকারো সাথে কথা বলতাম না।হ্যা, আর কয়একদিন পরই আমাদের কলেজে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।তো কে কি ধরনের কাপড় পরবে এখন সবাই তা নিয়ে ব্যস্ত।এমন সময় হঠাৎ এক অচেনা নাম্বার থেকে ফোন।আমি কিছু না ভেবেই ফোনটা রিসিভ করে, আমি:হ্যালো, কে? ঐ পাশ থেকে:আমি দিয়া। আমি:আরে দিয়া,হঠাৎ তুমি ফোন করলে? দিয়া:কেন?আমি কি তোমাকে ফোন করতে পারিনা? আমি:আরে কি বলছো এইসব?আগে কোনদিন ফোন দাও নি তো তাই বললাম। দিয়া:আচ্ছা শোন,আমাকে কি পরলে বেশি সুন্দর লাগবে? আমি:শাড়ি। দিয়া:শুধু শাড়ি?(একটু রাগ করে) আমি:না। দিয়া:তো? আমি:নীল শাড়ি,হাতে নীল আর সাদা কাচের চুড়ি,চোখে কাজল,আর কানে ঝুমকা। দিয়া:তবে আমার তো নীল শাড়ী নেই(মনটা একটু খারাপ করে) আমি:আচ্ছা বুঝলাম নীল শাড়ী নেই,তবে আমাকে হঠাৎ এইসব বলছো কেন? দিয়া:সময় হলে বুঝবা।এখন বল্ আমকে নীল শাড়ি বাদে কি সুন্দর লাগবে না? আমি:হ্যা অবশ্যই,কেন না? দিয়া:ঠিক আছে রাখি তাহলে।কলেজে দেখা হবে। আমি:আচ্ছা। আমি মনে মনে ভাবছি হঠাৎ দিয়ার এইসব বলার কারন কি?দূর এইসব কি ভাবছি?আমি আমার কাজ করি।আজ আমাদের কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর মাঝে দিয়ার সাথে তেমন করে আর কথা হয় নি কারন আমি অনেক ব্যস্ত ছিলাম।কলেজে ঢুকতেই চোখে পড়লো আমাদের কলেজের সেই সুন্দরী,তামান্না মেডামকে।যাকে দেখলে আমি ভুলে যাই সে আমাদের স্কুলের শিক্ষক। যাইহোক মেডামের গল্প আরএকদিন বলবো আজ শুধু দিয়াকে নিয়ে বলি।কলেজে ঢুকে সব বন্ধুদের আনন্দ,হাসি,নাচ,গানের মধ্যে দিয়াকে আমি চিন্তা থেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।অনুষ্ঠান শেষ সবাই যে যার মতো বাড়িতে চলে যাচ্ছে।সবার মতো আমিও বাড়ি যাবার জন্য কলেজ গেট থেকে বেড় হবো আর এমন সময় যা দেখলাম,আমি আর চোখ সরাতে পারছি না।একটা মেয়ে শাড়ী,কানে ঝুমকা পড়ে দাড়িয়ে আছে,আর মেয়েটা হলো দিয়া,আমি যেই ভাবে বলেছিলাম একদম ঠিক সেইভাবেই সেজেছে শুধু নীল শাড়ীটা নেই।তাও দিয়াকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি,হঠাৎ দিয়া আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল।আমিও তার পিছনে হাটতে হাটতে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসেও কেন জানি,দিয়ার কথাই মাথায় ঘুরছে।মনে হচ্ছে দিয়া মনে হয় আমার জন্যই সেজেছে।আবার ভাবছি দূর,আমার জন্য কেন সাজবে?কিছুক্ষণ পরেই দিয়ার ফোন। আমি:হ্যালো,কেমন আছ? দিয়া:ভালো আছি,আচ্ছা আজকে আমায় কেমন লাগছিল? আমি:লাগছিল, মোটামোটি ভালোই। দিয়া:ও আচ্ছা।(মনটা খুব খারাপ করে) আমি:আরে রাগ করছো কেন?আমি শুধু মজা করছিলাম। দিয়া :হইছে আর বলতে হবে না। আমি :সত্যি বলতে তোমাকে কালো পাইরের শাড়িটাতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল।আর বাতাসে যখন তোমার সামনের চুল গুলো উড়ছিল তখন তোমায় এলোমেলো চুলের রাজকন্যার মতো লাগছিল।আর একটু হলেই হয়তো আমি আমার নিজের অজান্তেই তোমার চুল গুলো নিজ হাতে ঠিক করে দিতাম। দিয়া:সত্যি!!!!(অনেক খুশি হয়ে) আমি:তিন সত্যি। দিয়া:ইসসসসসসস,তাহলে তুমি আমার চুল গুলো ঠিক করে দিলে না কেন? আমি:মানে,বুঝলাম না। দিয়া:হইছে তোমার আর বুঝা লাগবে না।সময় হলে ঠিকই বুঝবা।আচ্ছা রাখি এখন। আমি:ঠিক আছে। ফোন রেখে বসে বসে বসে চিন্তা করছি কি ব্যাপার দিয়ার এইসব কথা বলার মানে কি?এই সব কথা চিন্তা করতে না করতেই কিছুক্ষণ পর দিয়া আবার ফোন দিল।রিসিভ করে আমি:কি ব্যাপার?আবার ফোন দিলে যে? দিয়া:কথা আছে তাই ফোন দিয়েছি। আমি:আচ্ছা বাবা বলো কি কথা? দিয়া:কাল আমাদের পরীক্ষা আছে। আমি:তো?কি হয়েছে? দিয়া:কাল তোমাদের আর আমাদের এক সাথে ছুটি হবে,তুমি কি দেখা করতে পারবে? আমি:হ্যা।কোথায়? দিয়া:স্কুলের সামনে ওভার ব্রিজের নিচে? আমি:ঠিক আছে কিন্তু কেন? দিয়া:তোমাকে দেখবো।(একটু ঢং করে) আমি:ইসসসস,আমায় দেখার কি হলো? দিয়া:তোমার সাথে প্রেম করবো। আমি:মানে?(বোকার মতো ভান করে) দিয়া:তোমার আর বুঝা লাগবো না।তুমি সবসময় মানে মানেই করো।এখন রাখি কালকে দেখা হবে। আমি:আরে বলবা তো.................... সম্পূর্ণ কথা শেষ না করতেই ফোনটা কেঁটে দিল।কি ব্যাপার,দিয়া রহস্য জনক কথা গুলো তো আমায় শান্তি দিচ্ছে না আমার মনের ভিতরে ভাবনার ঝড় তুলে দিলো।এখন দিয়ার কথা ছাড়া যে মাথায় আর কিছুই আসছে না।আজ সারারাত আর ঘুম হয়নি।সকালের দিকে একটু ঘুম হয়েছে।ঘুম থেকে উঠে দেখি ১১টা ৫ মিনিট।আমি দেখে চমকে গেলাম কারন আমার কলেজ শুরু ১২টা ১৫মিনিট হতে।তাড়াতাড়ি কলেজের জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।কলেজে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১১টা৪৫ মিনিট।কেলেজে ঢুকেই মনে মনে দিয়াকে খুজছি,কিন্তু দেখছি না।কলেজ সার পড়াচ্ছে কিন্তু সেইদিকে আমার কোন মনোযোগ নেই আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দিয়ার কথা ভাবছি।ভাবতে ভাবতে কলেজের সময় শেষ কলেজে ছুটির ঘণ্টা বাজছে।আমি কলেজ থেকে বের হয়ে দিয়ার বলা জায়গায় অপেক্ষা করছি।কি ব্যাপার এখনও আসছে না কেন?মোটামোটি আধা ঘন্টার মতো তো হয়ে গেলো।তার মধ্যে আবার ঝিরঝর বৃষ্টি হচ্ছে।সম্পূর্ণ ভিজে যাচ্ছি।হঠাৎই কেউ একজন পিছন থেকে আমার দুই চোখ চেপে ধরলো।আমি চমকে উঠলাম,আমার হাত দিয়ে স্পর্শ করে, আমার চোখ চেপে ধরা হাতটা চিনার চেষ্টা করছি,বুঝতে পারলাম এইটা হয়তো কোন মেয়ে মানুষের হাত।মেয়েটার হাত আমার চোখ থেকে সরিয়ে পিছনে ঘুরে দেখি,দিয়া!! আমি তো একদম অবাক আর এই প্রথমবার কোন মেয়ে আমাকে স্পর্শ করলো।আর যখন 'দিয়া'আমার চোখ চেপে ধরেছিল তখন দিয়া শরীর থেকে এক অসম্ভব সুন্দর গন্ধ পাচ্ছিলাম।এতদিন শুধু হুমাইয়ুন আহমেদ এর লিখা বিভিন্ন উপন্যাসেই এমন গন্ধ সম্পর্কে পড়েছি তবে আজ নিজেই অনুভব করলাম।কেমন যেনো এক মাতাল মাতাল গন্ধ ছিল।আর হালকা ঝিরঝির বৃষ্টিতে দিয়াকে ভিজা চুলে দেখতে খুবই সুন্দর লাগছিল।দিয়ার কলেজ ড্রেসটা বৃষ্টিতে ভিজে দিয়ার গায়ের সাথে লেগে আছে।হঠাৎ দিয়া আমার এইসব চিন্তার মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে বললো,"এই কি ভাবছো?" আমি: না কিছু না তো। দিয়া আমার হাতে ছোট একটা চিরকুট দিয়ে বললো, "বাড়িতে গিয়ে পড়বে এইটা।" আমি:ঠিক আছে। দুইজন একসাথে ভিজে রাস্তায় হাটছি এখনও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।কেউকারো সাথে কথা বলছি না হঠাৎ আমার হাতে কারো হাতের হালকা স্পর্শ অনুভব করলাম।আর হাতটা ছিল দিয়ার।লজ্জায় কেউকারো দিকে তাকাতে পারছি না।আমিও কিছু বলতে পারছি না।কারন দিয়ার নরম হাতের স্পর্শে আমাকে যে এক অবুঝ এর মতো করে ফেলেছে।আস্তে আস্তে দিয়া আমার হাতটা পুরোপুরিভাবে শক্ত করে ধরলো।আমি সময়টা স্বাভাবিক করার জন্য কথা বলার চেষ্টা করলাম। আমি:দিয়া,ঐ চিরকুটা কিসের?(এখনও দুজন দুজনের হাত ধরে আছি) দিয়া:বাড়িতে গিয়ে দেখবে।এখন বলতে পারবোনা। আমি:কেন? দিয়া:সামনাসামনি বলতে লজ্জা করে। আমি:হাত যেহেতু ধরে ফেলেছো লজ্জার আর কিছু নেই। এইবার দিয়া হাত ছেড়ে দিয়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে হাটছে। আমি:কি ব্যাপার হাত ছেড়ে দিলে কেন? দিয়া:আচ্ছা শোণ চিরকুটা বাড়িতে গিয়ে পড়তে হবে না,একটা কথা বলি। আমি:কি কথা? দিয়া:এই চিরকুটের মধ্যে একটা কথা লিখা আছে।তোমার কাছে যদি কথাটা ভালো মনে হয় তাহলে আমার হাত ধরার জন্য তোমার হাতটা আগিয়ে দিবে।আর ভালো না লাগলে আর কোন কথা বলবা না।সোজা আগের মতো হেটে চলে যাবে। এইবার হয়তো আমি কিছুটা বুঝতে পারছি দিয়া কি বলতে চাইছে,আচ্ছা চিরকুটা আগে খুলি তাহলেই বুঝা যাবে।আমি চিরকুট খুলছি আর দিয়ার দিকে লক্ষ করছি,দিয়া লজ্জায় ঠিক মতো দাড়াতে পারছে না।কেমন যেনো ছটফট করছে। #চিরকুটে_যা_লিখা_ছিল "মামুন(আমার নাম)তোমার প্রতি আমার এক অনুভুতি জন্ম হয়েছে জানিনা এই অনুভুতিটা কিসের?তবে তোমায় ছাড়া কাটানো সময় গুলো কেনো যেনো খুব দীর্ঘ মনে হয় কেমন যেনো অস্থির লাগে।আমি এই অস্থিরতাটা কাঁটাতে চাই।আমি তোমাকে স্পর্শ করতে চাই, আমি তোমার হাত ধরতে চাই।তুমি কি আমায় তোমার হাত ধরার অধিকার দিবে? চিরকুটের লিখা শেষ।আমি চিরকুটা ভাজ করে আমার পকেটে রেখে,দিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি দিয়া কেমন যেনো এক তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।দিয়া হয়তো ভাবছে, আমি হাত ধরার জন্য তাকে আমার হাত বাড়িয়ে দিবো। কিন্তু না আমি সোজা হাটা শুরু করলাম,এই বুঝানোর জন্য যে আমি দিয়ার প্রস্তাবে রাজি না।দিয়াও আমার পাশে হাটছে দিয়া দিকে একটু আড়চোখে তাকিয়ে দেখি দিয়ার চোখে পানি টলটল করছে।আমি আমার হাটার গতিটা একটু কমিয়ে দিলাম এইবার দিয়ে আমার একটু সামনে সামনে হাটছে।আমি দিয়াকে চমকে দেওয়ার জন্য হঠাৎ দিয়ার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরি।দিয়া চমকে উঠলো।আমি দিয়ার কানের পাশ থেকে চুল গুলো সড়িয়ে কানে কানে বললাম,"আমি তোমায় আমার হাত ধরার অধিকার দিলাম,তুমকি আমায় তোমাকে জড়িয়ে ধরার অধিকার দিবে?" এইবার দিয়া ঘুরে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,"অনেক ভালোবাসি,সত্যি বলছি কখনোই দূরে যেতে দিবো না।" আমি,"আমিও অনেক ভালোবাসি"। দিয়া:তাহলে এতো ঢং করে বলার কি ছিলো?প্রথমেই হাতটা ধরলে পারতে। (একটু রাগ করলে) আমি:আরে বোকা আমিও প্রথম দিক থেকেই তোমার প্রতি দুর্বল ছিলাম কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি।আর প্রথমে হাত ধরিনি কারন আমাদের ভালোবাসার গল্পটা যেনো সুন্দর হয়। দিয়া:হয়েছে,আর বলতে হবে না এইবার একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরতো।আমার শীত লাগছে। এই হলো আমার আর দিয়ার প্রেম শুরুর গল্প।এখনও প্রেম চলছে। আর খুবই ভালো চলছে।মাঝে মাঝে মিষ্টি ঝগড়াও হয়।এই গল্প এইখানেই শেষ করছি। #
No comments yet