অপরিচিতার প্রেমে৩
গল্পঃ অপরিচিতার প্রেমে পর্ব_০৩ নীল আমি এদিকওদিক তাকালাম পিছনের একটা বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা ব্যাগ রাখা আছে। আমি ভাবছি হয়তো অন্য কেউ রেখে গেছে। আমি মেয়েটাকে মেসেজ দেওয়ার জন্য মোবাইলটা বের করবো তার আগেই ও আমাকে মেসেজ দেয়। "" ওই ব্যাগটা আপনার জন্য"" আমি রিপ্লাই দিলাম... """ আপনি কোথায়? "" """ সরি, আমি দেখা করতে পারবো না "" "" মানে কি, আপনি নিজেই তো বললেন এখানে আসতে "" """ হুম, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এখন দেখা করা উচিত হবে না "" "" এই কাজটা না করলেও পারতেন "" "" আচ্ছা আপনি ব্যাগটার কাছে যান, ওখানে কিছু জিনিস আছে আপনার জন্য "" "" কি জিনিস? "" "" সেটা ব্যাগ খুললে দেখবেন। আর হে, ব্যাগ বাসায় গিয়ে খুলবেন! "" আমি আর কোনো কিছু বললাম না, গিয়ে ব্যাগটা নিলাম। ভারি লাগছে, কি আছে ভিতরে আল্লাই ভালো জানে। আমি আশেপাশে খুঁজতেছি কাওকে দেখা যায় কিনা। আমি জানি মেয়েটা আমার আশেপাশে কোথাও লুকিয়ে আছে। কিন্তু সামনে আসছে না। আমি ব্যাগটা নিয়ে বাসায় চলে গেলাম। রাতের বেলা ব্যাগটা নিলাম খুলার জন্য। এই সময় রিয়াদ আর আবির আসলো।..... রিয়াদঃ কিরে এখানে কি? আমিঃ জানি না, দোস্ত। গিফট দিয়েছে। রিয়াদঃ কে দিছে? আমিঃ ওই সেদিন তোর কাছে যে শার্ট পাঠিয়েছে সেই দিয়েছে। আবিরঃ বাহ ভালো তো। এই রকম একটা গার্লফ্রেন্ড থাকলে আর কি লাগে. আমিঃ আরে কিসের গার্লফ্রেন্ড? ওরে তো আমি কখনো দেখি নাই। রিয়াদ আচ্ছা পরে কথা বলিস, এখন ভিতরে কি আছে সেটা দেখ। আমি ব্যাগটা খুললাম। প্রথমে অনেক গুলো বেলুন বের হলো। বেলুনে লেখা "" ভালোবাসি প্রিয়"" তারপর অনেক গুলো চকলেট, ২ টা গেঞ্জি, একটা ঘড়ি। আর পেন্সিল দিয়ে আঁকা আমার একটা ছবি। ওয়ালমার্টে সাজানো। রিয়াদঃ বাহ" খুব সুন্দর তো৷ এই নে চকলেট খা। আমিঃ তোরা খা, আমার ইচ্ছে নাই। আবিরঃ ইচ্ছে না থাকলে বাইরে গিয়ে বস, আমরা খাই৷ আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম৷ এতো গুলো গিফট দেওয়ার মানে টা কি? মেয়েটা কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে? ভাবতে ভাবতে আমি বারান্দায় গেলাম। তখনি মেসেজ আসলো। "" কি, গিফট পছন্দ হয় নি?"' আমি রিপ্লাই দিলাম। "" এগুলোর মানে কি"" "" মানে খুব সিম্পল, আমি আপনাকে ভালোবাসি "" "" গিফট দিলেই কি ভালোবাসা পাওয়া যায়? " "" সেটা আমি জানি না। বাট এটা সত্যি যে আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। "" "" আচ্ছা কল দিচ্ছি, মেসেজে কথা বলা আমার ভালো লাগে না "" আমি কল দেওয়ার আগেই সে কল দিয়ে দিলো। আমি কল টা ধরে সালাম দিলাম। তারপর কথা বলা শুরু করলাম৷ "" কি করছেন এখন? "" (মেয়েটা) "" আপনি তো সব জানেন, তাহলে জিজ্ঞেস করছেন কেন?""(আমি) "" আপনার মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে করছে "" "" আপনি প্লিজ এগুলো বন্ধ করেন। আমার ভালো লাগছে না "" "" কেন আপনার ভালো লাগে নি?"" "" এভাবে ভালোবাসা হয় না"" """ তো কিভাবে হয় শুনি একটু "" "" এতো কিছু আমি বোঝাতে পারবো না। আপনি যদি সামনে এসে কথা না বলেন, বা দেখা না করেন তাহলে আমি আর আপনাকে মেসেজ দিবো না। ব্লক দিতে বাধ্য হবো। "" "" আচ্ছা ঠিক আছে, আমি যদি ক্যাম্পাসে সবার সামনে আপনাকে প্রপোজ করি তাহলে একসেপ্ট করবেন? "" "" সেটা পরে দেখা যাবে। আগে তো সামনে আসেন। "" """ পরে না, এখন বলেন। যদি আপনি প্রপোজ একসেপ্ট করেন তাহলে আমি প্রপোজ করবো। "" "" আচ্ছা ঠিক আছে, আমি একসেপ্ট করবো। "" "" ওকে "" """ তাহলে কখন দেখা করবেন? """ "" টাইম বলা যাবে বা, যেকোনো সময় করবো। আপনি রেড়ি থাকবেন "" "" আমি ওকে "" """ আরেকটা কথা "" """ কি"" "" আপনি এই কয়েকদিন আমার দেওয়া শার্ট বা ট্রি শার্ট গুলো পড়বেন।"" "" কেন"" "" এমনি তাহলে আমার ভালো লাগবে। "" "" আচ্ছা ঠিক আছে "" আরো কিছুক্ষণ কথা বলে কল কেটে দিলাম। তারপর রাফাত শাকিলকে গিফট টার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলাম। এন্ড বাকি ঘটনা খুলে বললাম। ওরাও অনেক এক্সাইটেড, এতো দিন পর অপরিচিতা সেই মেয়েটা কে দেখতে পারবো। আমি মোটামুটি একটু টেনশনে আছি, মেয়েটা কে হবে, দেখতে কেমন হবে? যদি প্রপোজ না করে সবার সামনে অপমান করে তাহলে তো ক্যাম্পাসে আমার মান ইজ্জত সব শেষ হয়ে যাবে। ধুর যা হওয়ার হবে, এতো কিছু ভেবে লাভ নাই। ঘুমাতে গেলাম কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। বার বার মেয়েটার কথা মনে পড়ছে। গলাটা বেশ, খুব সুন্দর করে সাজিয়ে কথা বলে। এগুলো ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কলেজের দিকে রওনা দিলাম। কেমন যেন একটা ভয় কাজ করছে। গেইটের সামনে গিয়ে দেখি রাফাত শাকিল বসে আছে৷ আমি যাওয়ার পর,,, রাফাতঃ কিরে কি অবস্থা? আমিঃ এইতো ঠিকঠাক শাকিলঃ ওর সাথে আর কথা হইছে? আমিঃ না, মেসেজ দেয়নি। আমিও দিই নি। রাফাতঃ গিফট গুলো নিয়ে আসছিস। আমিঃ নারে ওগুলো বাসায় আছে। রাফাতঃ ফকিন্নি। তোরে কালকে রাতে নিয়ে আসার জন্য বলেছি মনে নেই? আমিঃ সরি দোস্ত মনে ছিলো না। শাকিলঃ আচ্ছা প্রপোজ কি আজকে করবে বলেছে? আমিঃ না, তবে বলেছে যেকোনো সময় করবে। শাকিলঃ তাহলে তোরে প্রিপেয়ার্ড থাকতে হবে। রাফাতঃ ক্লাস করবি? শাকিলঃ আজকে ভালো লাগছে না। চল ঘুরে আসি৷ আমিঃ কোথায় যাবি? শাকিলঃ দেখি, একবার বাইকে ওঠ বাকিটা পরে দেখা যাবে। আমি বাইকে উঠে রওনা দিবো এমন সময় রাত্রি মেয়েটা আর কয়েকটা বান্ধবী গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকতেছে। রাত্রি মেয়েটা আজকে একটা শাড়ি পড়ে এসেছে, বাকিরাও কয়েকজনে শাড়ি পড়েছে। আমি মনে হয় একমাত্র ব্যাক্তি যার কোনো মেয়ে ফ্রেন্ড নাই। রাফাতেরও কয়েকজন পরিচিত আছে।শাকিলেরও কয়েকটা মেয়ে ফ্রেন্ড আছে। অবশ্য ওরা শাকিলের স্কুল ফ্রেন্ড। স্কুল থেকেই ওদের সাথে একসাথে বেড়ে উঠেছে। রাফার রাত্রিকে দেখে হা করে আছে। আমি ওর মাথায় একটা টোকা দিলাম। আমিঃ শালা মুখ বন্ধ কর৷ মশা ডুকবে। রাফাতঃ দোস্ত তোরা যা, আমি যাবো না। শাকিলঃ কেন? রাফাতঃ যেভাবেই হোক রাত্রিকে আজকে প্রপোজ করবো। ওরে ছাড়া থাকা ইম্পসিবল। আমিঃ সেদিন ওতো এই কথা বলেছিলি। কিন্তু কাজের বেলায় তো কিছুই পারিস না৷ রাফাতঃ দোস্ত তোরা ঠিক করে দেনা। আমিঃ সরি এয়ার, আমি পারবো না। কারণ আমি মেয়েদের সাথে ভালো করে কথাই বলতে পারি না। তোর লাইন ঠিক করে দিবো তো পরে। রাফাতঃ শালারা তোরা কোনো কাজের না। যা করার আমি নিজেই করবো। এ কথা বলে রাফাত মেয়ে গুলার পিছু নিলো। আমরা আর কি করবো, বাইক থেকে নেমে ওর পিছে পিছে গেলাম। মেয়ে গুলা ক্লাসে চলে গেলো। আমরাও ক্লাসে গেলাম৷ দেখলাম রাফাত ওদের সামনে গেলো৷ রাত্রিকে কি যেন বলতে গিয়ে আবার আমাদের কাছে ফিরে আসলো। আমিঃ কিরে প্রপোজ করিস নাই? রাফাতঃ ধুর, ভয় লাগে। শাকিলঃ ভয়ের কি আছে। তুই তো বীর পুরুষ। রাফাতঃ শালা সামনে গেলে বুঝবি। তখন তোর বীর পুরুষগীরী কোথায় যায় টেরও পাবি না। আমিঃ তাহলে আর এখানে বসে থেকে লাভ কি। চল বাইরে যাই। রাফাতঃ প্লিজ দোস্ত তোরা কিছু করে দে। শাকিলঃ আমরা কিছু বললে রাত্রি আমাদেরও চড় দিবে। যে মেয়ে সিনিয়রদের মারতে ভয় করে না সেখানে আমরা তো কিছুই না। আমিঃ চল তো তোর কপালে প্রেম নাই। রাফাতঃ শালা নিজে তো পেয়ে গেছিস, তাই এখন আমারে বলছিস আমার কপালে প্রেম নাই। আমিও দেখবো দে সেই সুন্দরী যে তোকে ভালোবাসে৷ আমিঃ আচ্ছা দেখিস, এখন চল। তারপর আমরা বাইরে চলে আসলাম। কিছুক্ষণ ঘুরে বাসায় চলে গেলাম। মেয়েটা সারা দিন একটা মেসেজও দেয় নি। রাতেও দেয়নি,আমার কেমন জেন একটু খারাপ লাগছে। বার বার মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছি কিন্তু মেসেজ দেয় নি। আমিও আর নিজে থেকে দিই নি। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। পরের দিন শাকিল বাইক নিয়ে আমার বাসার সামনে আসলো। রেড়ি হয়ে ওর সাথে বেরিয়ে গেলাম। মাঝপথে রাফাতও উঠলো কলেজের সামনে যাওয়ার পর শাকিল বাইক একপাশে রাখলো। প্রতিদিনের মতো চা খেয়ে ভিতরের দিকে যেতে লাগলাম। গেইট দিয়ে ভিতরে যাওয়ার পর একটা ছেলে এসে আমাকে একটা গোলাপ ফুল দিয়ে কিছু না বলে চলে গেলো। আমি ওটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর আবার হাটা শুরু করলাম, এরপর কলেজের একটা ছোট বোন এসে আরেকটা ফুল দিলো। রাফাত শাকিল হা করে তাকিয়ে রইলো। আরেকটু ভিতরে গেলাম। একের পর এক ছেলে মেয়ে এসে আমার হাতে ফুল দিতে লাগলো। আমি পুরো টাসকি খেয়ে বসে আছি। কি হচ্ছে এগুলো। স্বপ্ন দেখছি না তো? যত এগুচ্ছি তত ফুল দিচ্ছে। আমি কিছু ফুল রাফাত শাকিলের কাছে দিয়ে দিলাম। যত ভিতরে যাচ্ছি ফুলের সংখ্যা বাড়তেছে। মাঠের মাঝখানে যাওয়ার পর দেখলাম অনেক গুলো ছেলে মেয়ে গোল হয়ে লাভ বানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি রাফাত শাকিলের দিকে তাকালাম। ওরাও টাসকি খেয়ে আছে। আমাদের দাঁড়িয়ে থাকা দেখে একটা মেয়ে ইশারায় ডাক দিলো। আমরা ওখানে গেলাম। ভিতরে যাওয়ার পর সবাই একটা একটা গোলাপ ফুল দিলো। মাঝখানে যাওয়ার পর দেখি কেউ একজন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে। ভয়ে আমার হা পা কাঁপতেছে। আমি উনারে পিছন থেকে ডাক দিলাম। ও তাকাতেই দেখি.... wait
No comments yet