বউ যখন অতিরিক্ত রোমান্টিক৪
গল্পঃ বউ যখন অতিরিক্ত রোমান্টিক।😍 পর্বঃ ৪ ট্রেনে দেখা হয়ে গেল কলেজ লাইফের এক বন্ধুর সাথে। প্রায় তিন বছর পর দেখা হল। - রোমানঃ আরে দোস্ত তুই..? - আমিঃ আরে রোমান... কেমন আছিস। - রোমানঃ এইতো আলহামদুলিল্লাহ, তোর কি অবস্থা ? - আমিঃ এইতো আছি, তো যাচ্ছিস কোথায়? - রোমানঃ ঢাকা, সেখানে নতুন একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি। তুই কোথায় যাচ্ছিস? - আমিঃ এয়ারপোর্ট । - রোমানঃ কাউকে রিসিভ করতে নাকি? - আমিঃ না! আসলে,,,আমি আর তোর ভাবি.... ও তোকে তো বলতেই ভুলে গেছি। এই হল তোর ভাবি লিমা। (লিমাকে দেখিয়ে বললাম) আমরা দুজন কোম্পানী থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। - রোমানঃ ওহ, তাহলেতো খুবই ভালো। - - তারপর লিমা ও রোমান দুইজন,,, একে অপরের সাথে মত বিনিময় করল। রোমান এর সিট একই কামরায় তবে আমাদের থেকে কিছুটা দূরে। আমার আর লিমার জয়েন সিট। তার পর যে যার সিটে বসে পরলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন চলতে লাগলো আপন গতিতে। ট্রেনে খুব ঘুম পাচ্ছিল আমার। তাই লিমার কোলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। লিমা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আহ কি ভালোই না লাগে বউয়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে। একটুপর লিমা ডেকে ঘুম ভেঙ্গে দিল। - আমিঃ কি হয়েছে, ডাকো কেন? - লিমাঃ ওঠো, বাদাম খাবে। - আমিঃ না ওঠতে পারবনা এখন। খুব ঘুম পাচ্ছে। - লিমাঃ আচ্ছা শুয়ে থাকো। আমি খোসা ছাড়িয়ে মুখে তোলে দিচ্ছি। - আমিঃ আচ্ছা। লিমা বদামের খোসা ছাড়িয়ে নিজেও খাচ্ছে, আবার আমাকেও খাইয়ে দিচ্ছে। - - এভাবেই ট্রেনে কেটে গেলো সময়। ট্রেন থেকে নামার সময় রোমানকে নিজের নাম্বার দিয়ে বিদায় নিলাম। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে গাড়ি করে এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেলাম। এখন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা । আমাদের ফ্লাইটের এখনো ২০ মিনিট বাকি। পকেট থেকে ফোন বের করে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে নিলাম। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে আমাদের ফ্লাইটের কথা শুনতে পেলাম। দেড়ি না করে লিমার হাত ধরে চলে আসলাম। সেখানে আমাদের কোম্পানির ম্যানেজার আমাদের সব ঠিকঠাক করে প্লেনে তুলে দিলেন। সিট বেল্ট পরে নিলাম দুজন। একটু পর লিমা হঠাৎ আমাকে,, চোখ বন্ধ করে জড়িয়ে ধরল। প্রথম প্লেনে চড়ছে তাই হয়তো উড়ার সময় একটু ভয় পেয়ে গেছে। - - আমিঃ এই ওঠো, ভয় পেয়ো না। - লিমাঃ মাথাটা কেমন যেন ঘুড়ছে। - আমিঃ আচ্ছা তাহলে কাধে মাথা রেখে শুয়ে পড়ো। লিমা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আর একটু পর পর চোখ খুলে আমার দিকে তাকাচ্ছে। যাক শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের মাটিতে পা রাখলাম। - - সেখানে আমাদের রিসিভ করার জন্য একজন ছেলে ও একজন মেয়ে ছিল। তাদের গাড়িতে করে আমাদের নিয়ে এলো টুরিস্ট হোটেলে। - - "হোটেল ইনডিগো" নামের একটি হোটেলের সামনে আমাদের গাড়ি এসে দাড়াল। আমরা ভিতরে গিয়ে আমাদের রুমের চাবি নিলাম। আমাদের রুম দেখিয়ে দিলেন সেখানের ওয়েটার। - ভিআইপি রুম। লিমা দেখেতো মহা খুশি। লিমার খুশিতে লাফাতে শুরু করল। আমিও খুশিতে লিমাকে কোলে তুলে নিলাম। - - লিমাঃ ছাড়ো, ফ্রেশ হতে হবে। - আমিঃ আমি আগে ফ্রেশ হব। - লিমাঃ না আমি আগে। - আমিঃ না আমি। - লিমাঃ আচ্ছা ঠিক আছে বাবা দুজন একসাথেই ফ্রেশ হব চলো। - - দুজনে ওয়াশরুমে সাওয়ার ছেড়ে গোসল করে নিলাম। কিছুক্ষন পর আমাদেরকে লাঞ্চ দিয়ে গেলো একজন হোটেল কর্মকর্তা। - - লিমাঃ আমার ভালো লাগছেনা, তুমি খেয়ে নাও। - আমিঃ ভাল না লাগার কি হলো হঠাৎ ? - লিমাঃ মা, বাবার কথা মনে পড়ছে। - আমিঃ আচ্ছা আমি খাইয়ে দিচ্ছি। তারপর তুমার মা বাবার সাথে ফোনে আলাপ করিয়ে দিব। তারপর লিমাকে খাইয়ে দিলাম। খাওয়ার পর লিমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলে দুজন শুয়ে রইলাম। - - লিমাঃ আজ কি আমরা কোথাও বের হব..? - আমিঃ না, আজ বের হব না। আজ বিকেল বেলায় দুজনে হোটেলের পরিবেশটা ঘুরে দেখব। এখন ঘুমিয়ে থাকো। - - লিমা আমার বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। আর একটু পর পর বুকের লোমগুলোতে শুড়শুড়ি দিচ্ছে। - আমিঃ আরে ঘুমাও না। - লিমাঃ ঘুম আসছে না। - আমিঃ তাহলে আমাকে ঘুমাতে দাও। - লিমাঃ আমি ঘুমাতে না পারলে তুমাকেও ঘুমাতে দিব না। - আমিঃ তো এখন কি তোমাকে ঘুম পাড়ানি গান শুনাতে হবে? - লিমাঃ না, জড়িয়ে ধরে আদর দাও। তাতেই চলবে। - - আমিঃ জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু এঁকে দিলাম। ঘুমিয়ে পরলাম দুজনেই। মুখের উপর শুড়শুড়ি অনুভব করে জাগ্রত হলাম। লিমা আমার মুখের উপর ওর চুলগুলো ছড়িয়ে আমাকে মেয়েদের মতো সাজানোর চেষ্টা করছে। ওর কান্ড দেখে আমি প্রায় বুকা হয়ে গেলাম। লিমা আমায় জড়িয়ে ধরল। - - লিমাঃ মেয়েদের মতো করে সাজালে তুমাকে অনেক সুন্দর লাগে। - আমিঃ আর ঢং করতে হবেনা। রেডি হয়ে নাও বাইরে যাব। দুজনে ফ্রেশ হয়ে চলে এলাম বাইরে। সম্পূর্ণ হোটেল ঘুরে দেখলাম। আমার কলিংদের সাথেও দেখা করলাম। একটা সুইমিংপুল এর ধারে বেঞ্চে বসলাম দুইজনে। আমাদেরকে গ্রীন টি দেওয়া হলো। - লিমাঃ চলোনা সুইমিংপুলে গোসল করি.... - আমিঃ এখন? - লিমাঃ হুম। - আমিঃ এখন না। কাল গোসল কইরো। #__চলবে.......!!
No comments yet