মানুষ আমরা তবু মানুষ নই!
শিশু আমরা তবু শিশুতে গণ্য নই! দিনের শুরু হয় তোমাদের সকালের সূর্যের আলোতে তখন আরেকটি সংগ্রামের পাতা রচিত হয় আমাদের গল্পে তোমাদের মুখের থুতু পড়ে ওই ফুটপাতে যেখানে রাত্রি যাপন চলে আমাদের প্রতিদিনে এক শহরের বাসিন্দা আমরা তবুও এক সারির নাগরিক নই! বড় অনুষ্ঠানে খাবার সাজানো তোমাদের, আর তার উচ্ছিষ্ট খুঁজেই আমরা সন্তুষ্ট রই। কত হরেক রকমের পার্থক্য তোমাদের সাথে! শুনলে তাহা,তোমরাই মুখ লুকিয়ে লজ্জায় পালাবে। ময়লা টাকার বান্ডিল গুনো মুখে আঙ্গুল ভিজিয়ে আমরা দুটাকা চাইলেই বলো- "ময়লা শরীর দূর হ তাড়াতাড়ি করে"। তোমাদের মানসিকতাকে জানাই ধিক্কার, এ কেমন সমাজ যেখানে নেই আমাদের অধিকার। একই রক্ত-মাংস ও গঠন, তবে কেন করো এত বিভেদের গল্প আলাপন। চাইনা তোমাদের অবস্থান, চাই না তো তোমাদের মত চলতে! চাই শুধু একটু সহানুভূতি,যাতে নিজ অবস্থানে জীবন বাঁচে। আমরা সহ্যশীল তোমাদের থেকে, তার প্রমাণ মেলে ময়লার স্তূপের পাশে। তোমরা নাক চিপে তাড়াতাড়ি করো প্রস্থান, আমরা হাসতে হাসতে খুঁজি সেখানে জীবন বাঁচানোর সরঞ্জাম। রুক্ষ চুল আর ধূলো ভর্তি মাথা, তাইতো সহস্র বছর হলো তোমাদের আদুরে হাত আমাদের মাথায় পড়ে না। চাইনা আমরা এসি হাসপাতাল, জ্বরে যেন মেলে শুধু একটা প্যারাসিটামল। নতুন পোষাকও চাইনা আমরা,ছেঁড়া পুরনোতেই দিব্যি চলে তবে দাও না কেন তোমাদের অব্যবহৃত সব একদিন ডেকে। শুনেছি বাংলায় আছে বর্ণমালা, কি সৌভাগ্য! একটি বর্ণও আজও শোনা হলো না। আমরাও মেধাবী, আমরাও হতে চাই শিক্ষিত দাও শুধু শিক্ষার আলো,নিজেকে করবো প্রমাণিত। যদি করো তোমরা 'সহায়তা' নামক কাজ, জ্বালাবো আমরা জ্ঞানের প্রদীপ, আলোকিত হবে সমাজ। বাহবা পাবে দেশ আমাদের, রচিত হবে নতুন ইতিহাস।
No comments yet