read.cash Log in
@Alsha more from that month

লাভ_এডভেঞ্চার #লাভ_এডভেঞ্চার

---------------------------- ১৯ দিন পর লাবিব যখন অল্প জি সামান্য অল্প যাকে বলে কথাবার্তা চালিয়ে নেবার মত অল্প সুস্হ হলো সেদিন...... টেবিলের উপর একটা ফুলদানি, সেটা ভরে উপচে রয়েছে ফুলে। ঘরের ভিতরে সাধারণত ফুল থাকে না, ফুল থাকবে বাগানে, তবুও কীভাবে জানি একটা মৌমাছি খবর পেয়ে চলে এসেছে ভিতরে। একটা একটা করে ফুল পরীক্ষা করে দেখছে মৌমাছিটা, মনে হচ্ছে না খুব খুঁতখুঁতে স্বভাবের কোনো ফুলই পছন্দ হচ্ছে। না, আবার চলেও যাচ্ছে না বিরক্ত হয়ে। লাবিব আহছান বিছানায় আধশোয়া হয়ে মৌমাছিটাকে দেখছে মুগ্ধ হয়ে। পৃথিবীতে কত ছোট ছোট জিনিসই-না আছে যেগুলি সে কোনোদিন চোখ খুলে দেখেনি, অথচ আর একটু হলে তার কিছুই আর দেখা হত না। গুলিটা যদি আর এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যেত তার হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে যেত। ফুসফুঁসে গুলি লেগে সেটা বুজে গিয়েছিল, বেঁচে যে গিয়েছে সেটা নাকি একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বড় বিপদটা কেটে গিয়েছে, এখন শুধু ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়া। ডাক্তার বলেছে কম করে হলেও তিন মাস সময় লাগবে। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে অসহ্য হয়ে ওঠে, কিন্তু কিছু করার নেই। একটা পরীর মত সুন্দর মুখ কল্পনা করে দিন কাটে।তখন সব ক্লান্তি দুর হয়ে যায়।এই উনিশ দিনে যখনি চোখ মেলেছে কাচের জানালায় সেই সুন্দর মুখটা দেখেছে ও।লাবিব একটা নিঃশ্বাস ফেলে একটু সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করল সাথে সাথে বুকের ভিতরে টনটন করে ওঠে যন্ত্রণায়।দাঁতে দাঁত চেপে যন্ত্রণাটা সহ্য করে, বেঁচে থাকা বড় মধুর ব্যাপার–তাঁর জন্যে যেটুকু কষ্ট করা দরকার সে করবে।কারন এখনো লাবিব বেঁচে আছে। দরজায় টুকটুক করে একটা শব্দ হল। লাবিবের মা উঠে গেলেন দেখতে। দরজাটা একটু ফাঁক করতেই প্রথম অনুস্কা এবং পরে অনুস্কার পিছুপিছু তার মা এসে ঢুকলেন।আজকে সরাসরি দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন ডাক্টার। কারন লাবিব এখন বিপদমুক্ত। অনুস্কা কেমন করে এত সুন্দরী হল সেটা তার মাকে দেখলে খানিকটা বোঝ যায়–দেখতে ঠিক অনুস্কার মতো সুন্দরী, দেখে বোঝাই যায় না অনুস্কার মা, মনে হয় বুঝি বড় বোন।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি অনুস্কার কোনো ভাইবোন নাই। অনুস্কা লাবিবের মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “লাবিব কেমন আছে খালামনি?” “ভালো মা, অনেক ভালো। কালকে একটু হেঁটেছে।” “সত্যি! কখন?” “সত্যি।বিকেলের দিকে” “ওর সাথে কথা বলা যাবে?” “হ্যাঁ মা, কথা বলা যাবে। ডাক্তার বলেছে এখন শুধু সুস্থ হওয়া বাকি। যত মন ভালো থাকবে তত তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন ইনফেকশান না হয়ে যায়।” “আমরা বাইরে জুতো খুলে রেখে এসেছি খালামনি।” “সেটাই ভালো।” অনুস্কা আর তার মা লাবিবের কাছে এগিয়ে গেলেন, লাবিবের মা ওর মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিয়ে একটু আদর করে দিলেন–যেন সে পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা। লাবিবের একটু লজ্জা লাগছিল, কিন্তু কিছু করার নেই। অনুস্কার মা লাবিবের সাথে একটা-দুটো কথা বলে খোঁজ-খবর নিয়ে লাবিবের মায়ের সাথে কথা বলতে লাগলেন।এবং এক সময় লাবিবের রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। অনুস্কা তার মা সরে যাবার সাথে সাথেই নিজের বুকের কাছে ধরে রাখা প্যাকেকটা বিছানায় রেখে লাবিবের বুকের উপর ঝুঁকে পড়ে চোখের উপর চোখ রেখে খুব আস্তে যেন লাবিব ছাড়া কেউ না শুনে তেমন ভাবে বলল, “কেমন আছো লাবিব?" অনুস্কার চুলগুলো লাবিবের চোখে মুখে উপচে পড়েছে।মিষ্টি একটা ঘ্রান পাচ্ছে ও।ঠিক উনিশদিন আগে যেমন পেয়েছিলো ঘুমের ভিতর। অনুস্কার এই চোখে চোখ রেখে কথা বলার ধরন মারাত্মক ভাবে প্রভাব ফেলে যা লাবিব প্রথম দিন খুব টের পেয়েছিলো। “ভালো।” মুখে একখন্ড তৃপ্তির হাসি ঝুলিয়ে বলল। “দেখি তোমার ব্যান্ডেজটা!” লাবিব ব্যন্ডেজটা দেখাল। ব্যান্ডেজ দেখে সে কী বোঝে কে জানে, কিন্তু তবু সে খুব মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করল, তারপর একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “তুমি না থাকলে আমি গিয়েছিলাম। এই গুলিটা তা হলে আমার মাথার মাঝে দিয়ে যেত।” অনুস্কার সুন্দর মুখের উপর বিষাদের ছায়া পড়ল।ফুটফুটে একটা মেয়ে এমন দুঃখি কন্ঠে কথা বলছে শুনে লাবিবের এত খারাপ লাগলো যে বলার মত নয়।লাবিব তার হাত বারিয়ে অনুস্কার গাল একটু ছুঁয়ে দিলো।লাল গালে রক্তিম আভা অপূর্ব লাগে তখন।মানুষ কিভাবে এতো অপরুপ হয়? অনুস্কা কিছু না বলে কিছু না বলে একটু হাসল। প্যাকেটটা খুলে ভিতরে থেকে কয়েকটা ডিটেকটিভ আর অ্যাডভেঞ্চার বই, দুটা ইংরেজি উপন্যাস আর একটা চকলেটের বাক্স বের করল।আরো একটা জিনিস বের করলো নীল তোয়ালে।অনুস্কা বলল,"আমার তোয়ালে টা রক্তে ভিজে গেছিলো।" লাবিব মন খারাপ করে থাকলো একটু।কিন্তু অন্য সব প্যাকেট দেখিয়ে লাবিব বলল, “সব আমার জন্য এনেছ?রসায়নের কোনো বই আনোনাই?" অনুস্কা চুপ করে থেকে বলল, “হ্যাঁ,তবে, চকলেট অবিশ্যি আমিও কিছু খেতে পারি।” “খাও।” অনুস্কা চকলেটের পোকা।না হলে কোনো উনিশ বছরের মেয়ের পার্সে টাকার সাথে সমান পরিমানে চকলেট থাকে? অনুস্কা যখন খুব মনোযোগ দিয়ে চকলেটের বাক্স খুলছে ঠিক তখন হঠাৎ দড়াম করে দরজা খুলে গেল এবং নিহিন মাথা ঢুকিয়ে বলল, “ভাইয়া,এসেই পড়ছি কিন্তু আর বলো দেখি কে এসেছে সাথে?” নিহিনের উত্তেজনা দেখে অবিশ্যি বুঝতে বাকি রইল না, মানুষটি কে হতে পারে, কিন্তু লাবিব ইচ্ছে করে না-বোঝার ভান করল, জিজ্ঞেস করল, “কে?” "মামা"! “সত্যি?” “সত্যি। এই দ্যাখো!” সে দরজা খুলে দিতেই মামা এবং তার পিছুপিছু অন্য সবাই এসে ঢুকল। লাবিবের কাছে এসে তার হাত ছুঁয়ে বলল, “ তুমি তো শুকিয়ে কাঠি হয়ে গেছ!” কিছু না বলে মামার দিকে তাকিয়ে হাসল।মামা বলল “তোমাকে দেখতে ম্যাচের কাঠির মতো লাগছে। শুকনো একটা শরীর–তার মাঝে বড় একটা মাথা! বেশি করে খাচ্ছ তো? না হলে কেমেস্ট্রির শিক্ষক তুমি কখন না দ্রবন হয়ে টেস্টটিউবে চলে যাবে টের পাবেনা। “খাচ্ছি।” “হ্যাঁ, বেশি করে খাও।” “খাব। তুমি ভালো আছ?” “ভালো আছি।” “তোমার কাজকারবার কেমন চলছে শুয়ে বসে হুম ভাগিনা?” “ভালো।” মামা হঠাৎ গলা নামিয়ে বলল, “নতুন কোনো বোমা আবিষ্কার করেছো নাকি তুমি যদি দেখ– অনুস্কাকে কেউ.....! মামা হঠাৎ গলা নামিয়ে কথা বলছে দেখে চিৎকার করে নিহিন বলল, “তোমাদের আলাদা আলোচনা এখন রাখো। এক্ষুনি আলাদা করে রাখো, নাহয় আবার কিছু-একটা কেলেঙ্কারি করে ফেলবে!” নিহিনের কথা শুনে সবাই হি হি করে হেসে উঠল আর মামা তখন রেগে ওঠার ভান করে বললেন, “তোরা ভাবছিস আমি ঠাট্টা করছি? মোটেও ঠাট্টা করছি না। সত্যি কথা বলছি। শুনবি তোরা? হ্যা বলে রাখা ভালো লাবিব আহছান তার মামা বাড়ি যাচ্ছিল। নিহিন তো পুরোটা জানেনা। আর না জানে বাবা মা।জানে শুধু মামা। মামা লাবিবর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললেন, “গুলি খেয়ে হাসপাতালে শুয়ে আছো বলে ভেবেছিস তোমাকে আমি ছেড়ে দেব? কক্ষনো না। নেভার। শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে!” “কিসের শাস্তি?” "তোমার লাভ এডভেঞ্চারের কি খবর!" " কি বললে মামা?" “এখনও জানো না কিসের শাস্তি? ঠিক আছে বলছি। নাহ থাক যখন দেখবে তখন আর কষ্ট করে বলতে হবে না।" লাবিব উনিশ দিন আগের দুর্বিসহ আবার বলা যায় জিবনের মধুর দিনটিতে ফিরে গেলো,,, --"বাসের ভিতরে ঘুমানো হয়ত একটা রোগ।সবাই অবশ্য ঘুমাতেও পারেনা।কাদের ল্যাপটপের ব্যাগটা সাইডে রেখে সদ্য চাকরি পাওয়া রসায়নের লেকচারার লাবিব আহছান খুব ফুরফুরে মেজাজে আছে।রুল মেনে চলে তাই জানালার কাছে সিট খালি রেখে নিজের সিটে বসে গেছে।ফালতু উঠাউঠির ঝামেলায় যেতে চায়না। একদম নিরিহ মানুষ।বাস ছাড়তে আরো দেরী আছে।সকাল সকাল অর্ধেক ঘুম চোখে রেখেই চলে এসেছে।ভালো করে খেতেও পারেনি এই বুজি বাস চলে গেলো।ওর মা খাবার দিতেও সময় পেলোনা।তাই খাবারের কথা বাদ দিয়ে সকালের অসমাপ্ত ঘুমটা পুরো করতে চোখ বুজে ফেললো।হালকা ঝাকুনিতে আর মুখে শুরশুরি লাগাতে চোখ খুলতে বাধ্য হলো লাবিব।হুট করে ভুলে গেছিলো বাসায় নাই বাসে বসে বসে ঘুমাচ্ছে। ভেবেছে নিহিন হয়ত কাঠি দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে।কবে যে ধরে নিহিনকে টেস্টটিউবে ভরে ফেলবে কে জানে।চোখ খুলে চোখের উপর একরাশ চুল দেখতে পেলো।চুল এতো নরম হয়? কোনো ধারনা ছিলোনা এই লেকচারারের।এত সুন্দর একটা ঘ্রান।চোখটা ঠিক ঠাক বাঁচিয়ে পাশে বসা মানুৃষটার দিকে তাকালো।হালকা নীল একটা ওড়না মাথায় তুলে দেয়া।হয়তো কানে ছোট স্টোনের দুল পড়েছে।সূর্যের আলোতে চকচক করছে।সেই চকচকে আলো মানুষটার মুখ দেখতে দিচ্ছে না।কিন্তু একটু পর নিজেই লাবিবের দিকে ফিরে তাকালো।লাবিব এতটুকু জিবনে যত মানুষ দেখেছে বাজি ধরে বলতে পারবে এমন সুন্দর করে হাসি দিয়ে তাকানো মানুষ আর কখনো দেখেনাই।কি সুন্দর দেখতে।একদম পুতুলের মত একটা মেয়ে।চোখ ফিরানো যায়না তেমন একটা মেয়ে।গুলুগুলু চোখ তুলে লাবিবের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল,"এইটা আমার সিট।আপনি ঘুমাচ্ছেন তাই আর জাগাই নাই।আমি সিটে এসে বসেছি।"লাবিব কিভাবে কথা বলতে হয় ঠিক যেন ভুলে গেছে এখন।নিজের হাত পা কাঁপছে।কিন্তু কেন? সবাই যে বলে লাবিবের এর মুখমণ্ডল কী অপূর্ব। খাড়া নাক, বড় বড় কালো চোখ। উঁচু চিবুক। মাথা ভরা কুচকুচে কালো চুল- সেটা আবার ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে!ওর শরীরটা দেখে মনে হয় কেউ যেন গ্রানাইট পাথর খোদাই করে তৈরি করেছে। শরীরে এক ফোঁটা মেদ নেই। দেখ, বুকটা কত চওড়া, শরীরে কী চমৎকার মাংসপেশি!কখনো নিহিনের ক্লাসের মেয়েরা বলে এর শরীরের ভেতর কী পরিমাণ শক্তি লুকিয়ে আছে খোদা জানে।দেখে মনে হয় যেন সে একটা চিতাবাঘের মতো, যে কোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে? হাতের আঙুলগুলো দেখ, লম্বা সুচালো, যেন একজন শিল্পীর হাত। পা কত দীর্ঘ! কোমরটা কেমন সরু হয়ে এসেছে। কিন্তু এই মেয়েটার সাথে কথা বলতে পারছেনা লাবিব।নিজের উপর আস্হা হারিয়ে ফেলছে।মেয়েটা পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলে,-"আমার নাম অনুস্কা।আপনি হুট করে ঘুম থেকে উঠে হয়ত নার্ভাস ফিল করছেন।" কত সুন্দর করে কথা বলে মেয়েটা।একদম চেনা মানুষদের মতো।নাকটা একদম খাড়া।বাশির মত।ভেবেই নিজের মনে ফিক করে হেসে ফেলে লাবিব।"বাশির মত নাক"!হিহিহি। কিছু সময় চোখ বুজে ধাতস্হ হয়ে লাবিব বলে,"-এক্সকিউজ মি! আমি লাবিব আহছান। এখানকার কলেজের রসায়নের লেকচারার।তবে এখন যাচ্ছি কলেজের একটা প্রজেক্টের কাজে সাথে মামা বাড়ি বেড়ানো হবে।আর সরি তখন ঘুম থেকে উঠে বুজতে পারিনাই কোথায় আছি।বিভ্রন্ত লাগছিলো।আপনি হয়তো ভেবেছেন আমি পাগল।" অনুস্কা কথা শুনে হেসে ফেললো।বাহ কি চমৎকার করে হাসে। হাসা যে একটা আর্ট লাবিব আজকে শিখলো।হাসলে অনুস্কার মুখটা দেখার মত সুন্দর লাগে।হাবার মত লাবিব তাকিয়ে হাসি উপভোগ করছে। অনুস্কা বলল,"-আমি ঘুম থেকে উঠে আধা ঘন্টা মা কে ডাকি।মা কে না পেলে আপনার মত অবস্হা হয়।হাহা" শুনে লাবিব ও হেসে দিলো। চাঁদের মত ফুটফুটে একটা মেয়ে।কথা বলে ঠিক যে দশ বছরের বাচ্চা।এতো মিশুক মানুষ হয় নাকি?লাবিবকে অনুস্কা বলল,-"আপনাকে স্যার ডাকা উচিত।যেহেতু এই এত্তো লাম্বা পথ একসাথে আবার পাশাপাশি বসেই যাচ্ছি সুতরাং আপনাকে সম্মোধন ছাড়া কথা বলা উচিত হবেনা।তাই না?" লাবিবের যথেষ্ট রাগ হলো কিন্তু মুখে হাসি হাসি ভাব করে বলল,-"কখনো না। আমি এখন সাধারন মানুষ।আর জৈব যৌগের মত কোনো বিষয় নিয়েও আলোচনা করছি না আমারা।অতএব আমার নামেই আমাকে ডাকলে যথেষ্ট।যেমন তোমাকে ডাকবো, অনুস্কা বলে।" অনুস্কা এবার জোরে হেসে উঠলো।যেন লাবিব মজার কোনো জোকস বলেছে।মুখে বলল,'ঠিক ঠিক একদম ঠিক।'বলে আবার হাসতে থাকলো।হাসি ছোঁয়াছে।লাবিবও হাসিতে যোগ দিলো।চোখের কোন দিয়ে হাস্যজ্জ্বল অনুস্কাকে দেখছে ।কত সরল একটা মেয়ে।অহংকারের ছিটা ফোটাও নাই। অনুস্কা কথা বলার ফাঁকে বলেছে,ওর বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার।যেখানে যাচ্ছে সেটা ওর বাবার কর্মস্হল।বাবাকে সারপ্রাইড করতে যাচ্ছে।কারন পরদিন ওর বাবার জন্মদিন।কাজের চাপে বাড়ি আসতে পারছেনা।তাই বলে বাবার সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন কাটানো মিস করতে চায়না।লাবিবকেও ইনভাইট করতে ভুলে যায়নি অনুস্কা। লাবিব খুব খেয়াল করে দেখলো অনুস্কাকে।আহা মরি কতগুলো ফর্সা না।একদম মাঝামাঝি।অথচ চোখ ফেরানো যায়না এতটা মোহনীয়।তারপর যে জিনিসটা আকর্ষনীয় সেটা হলো হাসি হাসি মুখ।সব সময় মনে হয় হাসি রাখে মুখে।চোখের তীক্ষ দৃষ্টিতে মনের কথা পড়তে পারে।না হলে একটু আগেই যখন লাবিবের খুদা লাগলো অথচ মরার ঘুমের জন্য খাবার কিনতে পারলো না অথচ এখন প্রচন্ড খিদায় পেটে ছুচো দৌড়াচ্ছে।অনুস্কা সাথে সাথে বুজে ফেলল আর নিজের ব্যাগ থেকে খাবার বের করে ঢাকনা খুলে লাবিবের মুখের সামনে ধরে বলল,"-- আমারো প্রচন্ড খিদে পেয়েছে।কিন্তু দেখুন মা বিরিয়ানি দিয়েছে আর আমি এত গুলো খাবার কিভাবে খাই বলুন তো।আমি পেট ঠান্ডা থাকে তেমন খাবার খাই।যেমন ধরুন কোকাকোলা খাই আর এইযে দেখুন পিঠা।ঠান্ডা জিনিস।"লাবিব অবাক হয়ে অনুস্কার মুখে তাকিয়ে থাকলো।মেয়েটা এত সুুন্দর করে প্রতিটা কথা বলে যে শুনলে খালি শুনতে ইচ্ছা করে।ইস লাবিবের লোভ হচ্ছে ওর বাবা মাকে দেখতে।তারা নিশ্চয় অনেক শিক্ষিত আর সুন্দর মানুষ।না হলে এমন চাঁদের মত সুন্দর মেয়ে আসলো কোথা থেকে।লাবিব অবাক হয়েছে মেয়েটার কথা,কাজ আর সহানুভুতিশীলতায়।দুপুরে এত সুন্দর সুস্বাদু খাবার খেয়ে লাবিবের মন ভালো হয়ে গেলো।ঘুম এলো কিন্তু ঘুমালে যে চলবে না।আরো কত কথা এবং কাজ বাকি তার।অনুস্কা লাবিবকে বলল,"যেহেতু গন্তব্য একি তাহলে আমি যদি কিছু সময় চোখ বুজি আপনি কি আমার ব্যাগটার খেয়াল রাখবেন? আব্বুর জন্য মা কি কি দিয়েছেন।আমি কিছু উপহার এনেছি।যেহেতু বাড়িতে যেতে পারবেন না এবার।"বলেই কিছুটা মন খারাপ করলো এবং সাথে সাথেই বলল,-"যেতে পারেনি তাতে কি আমি তো এসেছি।জানেন ছোট বেলায় আব্বু হাজারো কাজ ফেলে আমি বলার সাথে সাথে চলে যেতো এখন আমি বড় হয়ে গেছি।কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে তো হবে।" লাবিব বলল,"--তুমি ইচ্ছে করলে ঘুমিয়েও নিতে পারো।তবে এক ঘন্টার বেশি এক সেকেন্ডও নয়।কেমন?" অনুস্কা একটু হেসে তাকালো ওর দিকে।বাপরে এতো সুন্দর মিষ্টি করে মানুষ কিভাবে হাসে? লাবিব পুরো গেছে।এর আবার গভীর গর্ত পড়ে হাসলে পড়ে।বাংলায় টোল বলে যাকে।যাহঃ অনুস্কা মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।যা বকবক করলো এতো সময়। অনুস্কা মুখের উপর হালকা করে লাল রঙ্গের ওড়না টেনে দিলো।জানালার কাচ হালকা খুলে রাখলো।মৃদু বাতাসে অনুস্কার চুলগুলা লাবিবের মুখে ঝাপটা দিচ্ছে।লাল ওড়নার উপর রোদ পড়ে অনুস্কার মুখ লাল হয়ে উঠেছে।হালা ঘাম নাকের উপর।মুক্তোর মত জ্বলজ্বল করছে।ইস কতটা নিঃপাপ লাগছে মেয়েটাকে।নিজের বাবা মাকে প্রচন্ড ভালোবাসে কথাবার্তা শুনলে তেমনি মনে হয়।কত আদরের সন্তান তাদের সেটা অনুস্কার পোষাক,বেশভুষা, আর রুচি সম্মত সাজগোজেই বুজা যায়।লাবিব জানালার পর্দা টেনে দিলো।মাথার উপরে একটা ফ্যান্ট ছিলো সেটা অন করে দিলো।গুটিসুটি দিয়ে হাত মাথার নিচে দিয়ে অনুস্কা ঘুমাচ্ছে।লাবিবের মনে আছে ওর ছোট খালার বেবিটা ঠিক এমন ঘুমায়। যখন ছোট ছিলো তখন প্রায় ই বেড়াতে আসতো।লাবিব খুব আদর করে ওদের।আজকে একটা বড় বাচ্চা মেয়ে দেখলো যে কিনা বাচ্চাদের মত ঘুমায়,আদুরে কথা বলে,নিঃপাপ ভাবে হাসে,মানুষের সাথে সহজে মিশে আপন করে ফেলে।কি আযব।হয়ত পরিবার থেকে এমন শিক্ষা পেয়ে বড় হয়েছে।অবশ্যই সম্ভ্রান্ত পরিবার ওরা।কথার ভিতরে কোনো বাচালতাও নাই। ঘুম থেকে অনুস্কা যখন উঠলো তখন দেখলো ও সরে অনেকটা লাবিবের বুকের কাছে এসেছে।যখন বাসের ধাক্কায় বুকের কাছে সরে এসেছিলো লাবিবের তখন দম আটকে যাবার মত অবস্হা।নরম একটা গাল। একদম পুতুলের মত হাতের আঙ্গুল।সুন্দর নখ।ছোট একটা সাদা পাথর দেয়া রিং হাতে। কাজল একটুও সরে যায়নাই।মেয়েদের কাজল পড়া ও একটা আর্ট।সাহিত্যেক হলে আজকে কয়েকটা উপন্যাস লেখা হয়ে যেতো।কাঠখোট্টা রসায়ন পড়েছে কিন্তু কোনো রস কস নাই। আজকে মনে হচ্ছে লেকচারার না হয়ে সাহিত্য পড়লে বেশ হত। অনুস্কা উঠে বলল,-"কয়টা বাজে?আমরা কি এসে গেছি? লাবিব অনুস্কার হাতে পানির বোতল দিয়ে বলল,"-না আরো সময় লাগবে।তুমি বরং পানি খেয়ে নাও।মুখে পানির ঝাপটা দাও আর তারপর এই ক্যাটবেরি টা খাও।" খুশি হয়ে চকলেটটা নিলো ও। মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটা নীল তোয়ালে বের করলো।তখনি লাবিব বলল,"-অনুস্কা তুমি কি তিথির নীল তোয়ালে পড়েছ?নীল তোয়ালে কত খুজেছি আমি পাইনাই।" অনুস্কা সাথে সাথে বলে উঠলো,-"পড়েছি আমি।আপনাকে এই তোয়ালেটা দিতে পারি কিন্তু এখন এটা আমার কাছে কয়েক মাস হলো আছে আর ভিজে গেছে।আমি পানি মুছলাম না?" লাবিব এমন কিছু বলবে অনুস্কা ভাবতে পারেনাই।ভদ্রতার খাতিরে বলল,-"যদি দাও আমি নিতে পারি।" এটা হয়ত জোকস ছিলো ভেবে অনুস্কা হেসে ফেলল।তারপর বলল-" আপনি গল্প জানেন না? বলুন তো একটা।" লাবিব ভেবে বলল,"গল্প না সত্যি কাহিনি বলি।আমাদের পিএইচডি করতে অনেক ছাত্র ছাত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমাতে হয়।তখন গিয়ে আমরা তো অবাক কি হয় জানো?সেখানে যাবার পর আমরা ঘুরতে অস্ট্রেলিয়া যাই।ছোট ছোট ঘর একদম কেবিনেটের মত।আমরা যাকে খেলনা ঘর বলি তেমন।আমরা ক্যাঙ্গারু দেখতে গেলাম পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে যেন আমাদের দেখছিলো।আমরা প্রধান। মন্ত্রী আর ওরা স্কুল বাচ্চা। স্বাগমত জানাচ্ছে আমাদের।হাহাহা। জানো তো ওদের বাচ্চারা ওদের পেটের নিচের থলিতে থাকে।দেখে মনে হয় ওই থলি তে বুজি দুনিয়ার সব উষ্ণতা সুখ পরিতৃপ্তি।" অনুস্কা খুব মনোযোগ দিয়ে লাবিবের মুখের দিকে তাকিয়ে গল্প শুনছে।লাবিব যখন দেখলো অনুস্কা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিক তখনি ও তোতলাতে শুরু করলো।চারদিকে অন্ধাকার হয়ে এসেছে।বাসের ভিতরে লাইট অন করে দেয়া হয়েছে।একটা বাজারের মত জায়গায় বাসটা প্রায় ত্রিশ মিনিট যাত্রা বিরতি দিলো।সব যাত্রীরা যে যার মতো নেমে গেলো।অনুস্কা খালি বাসে বসে ফোনটা বের করলো।প্রথমে মাকে পরে বাবাকে ফোন করলো।লাবিবও ওর বাসায় ফোন করলো।নিহিন ফোন ধরার পর শুরু করলো দুনিয়ার কথা।"-ভাইয়া একা গেলে নিলে না।কত কি ঘুরছ।পাশে কে বসেছে? "এর উওরে লাবিব শুধু বলল," পরী"! অনুস্কাকে সাথে নিয়ে লাবিব নিচে নামলো।অনেক দোকান সেখানে।অনুস্কা হুট করে পড়ে যাচ্ছিল।ভাগ্যিস লাবিবকে খামচে ধরে রক্ষে।তবে ওর জুতাটার ফিতে ছিড়ে গেলো।পাশের সপিং মলে ঢুকে প্রথমে অনুস্কা পাম্প শু কিনলো তারপর তোয়ালের দোকানে গিয়ে সুন্দর একটা নীল তোয়ালে কিনলো।এবং সেই সময় লাবিব নিজের কিছু জিনিস কিনতে অন্য একটা দোকানে ছিলো।লাবিবের হাতে বিশাল সাইজের অনেক গুলা ব্যাগ।যার ভিতরে মামা মামির জন্য দুটো ব্যাগ নিজের জন্য একটা আর বাকি গুলো সব অনুস্কার জন্য।যা দেখে যে কেউ বুজবে ও বুকি বাসের যাত্রী নয় বরং সপিং করতে এসেছে বৌর সাথে।অনুস্কা আরো একটা কাজ করলো।জামা পাল্টে নিলো।সর্বশেষে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাবার খেয়ে নিলো। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা তারপর গন্তব্য।লাবিবের বুকের ভিতরে তিরতিরে একটা ব্যাথা শুরু হয়।ইসস যদি অনুস্কার সাথে এভাবে থাকা যেতো। নাহ ঠিকানা,ফোন নাম্ভার,সব রেখে দিতে হবে।পরীরা ছেড়ে দিলে আকাশে উড়ে যায়। ।বাস ছেড়ে দিলো।এবং এর পর অন্ধাকার বাহিরে কিছু দেখা যায়না।হয়তো আমাবস্যা চলছে এখন। বাহিরে শুধু অন্ধাকার আর সারি সারি গাছের ভুতুরে ছায়া।লাবিব কিছু বলতে চাইছে কিন্তু পারছেনা।এমন সময় বাসাটা থেমে যায়।কেউ কিছু বুজে ফেলার আগেই হুট করে বাসে কিছু লোক ঢুকে পড়ে আর সবাইকে চুপ থাকতে বলে।কিছু শিশু ছিলো যারা লোকের এমন পোষাক আর কথা বার্তায় ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলে।লাবিব অনুস্কার মুখ ঢেকে ফেলে ওড়না দিয়ে।ভয়ে অনুস্কার বুকের ভিতর দ্রিম দ্রিম শুরু করে।শক্ত করে লাবিবের হাত খামচে ধরে।কানের কাছে মুখ এনে বলে,"খুব সাঙ্ঘাতিক লোক এরা হয় নারী পাচার কারি নয়তো ডাকাত।খুব খুব ভয় করছে আমার।" লাবিব আস্তে করে বলে, "-কিছু হবেনা।তুমি চুপ করে বসে থাকো।কেউ চোখ তুলে ও তাকালেও চোখ তুলে নিবো! ওরা মাত্র তিনজন।বুজলে তুমি।তোমার কোনো ভয় নাই।" অনুস্কা এতো ভয় সত্যেও মুখের ওড়না সরিয়ে লাবিবকে দেখে নিলো একবার।ঠিক তখনি দুর্বিত্তদের নজরে পড়লো এবং অনুস্কার দিকে এগিয়ে আসলো। লাবিব দেখেছে ওদের হাতে গুলি আছে তাও ওরা কিছু বুজার আগেই একটা ঘুষি ছুড়লো।এবং এত জোরে ছিলো যে সাথে সাথে লোকটার নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হলো।সেন্সলেস হয়ে বাসের ভিতরে পড়ে গেলো।বাসের লোকজন কিছুটা সাহস পেলো।অনুস্কা ভয়ে প্রায় কেঁদে দেবার অবস্হা।বাসের ভিতর এমন দস্তাদস্তিকে কবে দেখেছে।দুর পাল্লার বাসে এমন ডাকাতি উহু কি অবস্হা।দ্বিতীয় ডাকাত তখন সবার গয়না টাকা নিতে ব্যাস্ত।তৃতীয় ডাকাত গুলি বাগিয়ে আছে।সঙ্গির পতনে ওরা দিশেহারা হয়ে গেলো।বাস থেকে ডাকাতি জিনিস নিয়ে নামাতে চাইলো।তৃতীয় ডাকাত বলছে কেউ নড়বেন না তাহলে গুলি করবো।কিন্তু কে শুনে কার কথা।সবাই ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইলো। সবার সামনে ছিলো অনুস্কাদের সিট। যেহেতু লাবিব পাশ থেকে উঠে গেছে তাই সহজেই তৃতীয় ডাকাতটা অনুস্কার কাছে পৌঁছে ওর হাত ধরে টানাটানি শুরু করলো।অনুস্কা কেঁদেকেটে মুখ লাল করে ফেলছে।ডাকাতটা বললো কেউ নড়লে এই মেয়েটার মাথা উড়িয়ে দিবো। "ডোন্ট সুট হিম প্লিজ।" বলতে বলতে লাবিব এগিয়ে আসতে নিলো।ঠিক তখনি অনুস্কাকে ছেড়ে দিয়ে গুলিটা লাবিবের বুকে লাগলো। অথচ প্রচণ্ড একটা শব্দ শুনতে পেল লাবিব, সাথে সাথে ভয়ংকর একটা আঘাতে ছিটকে পড়ল নিচে। গুলি লেগেছে তার শরীরে। কোথায় লেগেছে গুলি? ব্যথা করছে না কেন তার? লাবিব চোখ খুলে তাকাল,বাসের ভিতর শুয়ে আছে সে, উপরের অনুস্কার মুখের তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ টের পেল তার শরীর ভিজে যাচ্ছে উষ্ণ রক্তে। উপুড় করে রাখা বোতলের মতো গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে।লাবির তার হাতটা রাখল বুকে, সেখানে আরো একটা হাত রাখা অনুস্কার। ওদের হাত ভিজে গেল রক্তে। সে চোখের সামনে এনে ধরল অনুস্কার হাত, টকটকে লাল হয়ে আছে তার হাত। রক্ত এত লাল হয়? কী আশ্চর্য!লাবিব হাত নামিয়ে এনে চোখ বন্ধ করল। ভয় নয়, আতঙ্ক নয়, কষ্ট বা যন্ত্রণা নয়, ক্লান্তি লাগছে তার। কী অমানুষিক ক্লান্তি–সমস্ত শরীর অবশ হয়ে আসছে সেই ক্লান্তিতে। কেউ যেন তাকে ডাকছে বহুদূর থেকে। খুব চেষ্টা করে চোখ খুলল। তার উপর ঝুঁকে আছে অনুস্কা। চিৎকার করে ডাকছে তার নাম ধরে।ও মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে অনুস্কার দিকে, কী সুন্দর দেখতে মেয়েটি! আহা, কী সুন্দর! সে কি তাকিয়ে থাকতে পারবে অনুস্কার দিকে? নাকি আবার তার চোখ বন্ধ হয়ে আসবে? লাবিব অনুস্কার দিকে তাকিয়ে রইল। দেখল সে ডাকছে তার নাম ধরে, “লাবিব,লাবিব,,,,!"লাবিবের ইচ্ছে করল বলতে, এই তো আমি কিন্তু সে কিছু বলতে পারল না। সে অনুস্কার দিকে তাকিয়ে রইল, দেখল সে এখনও চিৎকার করে ডাকছে,কাদছে, মুখ চোখ লাল হয়ে গেছে।কি সুন্দর মেয়েটা।কিন্তু তার কথা আর শোনা যাচ্ছে না। শুধু তাকে দেখছে, কিন্তু কিছু আর শুনতে পারছে না। মানুষজনের চিৎকার হৈচৈ কোলাহল কিছু নেই। কোথাও আর কোনো শব্দ নেই। চারদিকে শুধু আশ্চর্য সুমসাম নীরবতা। এটাকেই নিশ্চয়ই মৃত্যু বলে–এমন কিছু তো খারাপ নয়। অনুস্কা অবাক হয়ে দেখল লাবিবের মুখে বিচিত্র একটা হাসি ফুটে উঠেছে।" রাত্রে ডাক্তার লাবিবের বুকের ব্যান্ডেজটা পালটে দিচ্ছিলেন। ভেতরের ঘা শুকিয়ে আসছে, খানিকক্ষণ লক্ষ করে কী-একটা ওষুধ দিয়ে নতুন করে ব্যান্ডেজ লাগাতে লাগাতে বললেন, “ইয়ংম্যান, তুমি খুব লাকি, তাই বেঁচে গিয়েছ। কিন্তু একটা দাগ থেকে যাবে সারাজীবনের জন্যে। যখন তুমি বিয়ে করবে–তোমার বউকে এই দাগটা নিয়ে কী বলবে এখন থেকে সেটা ঠিক করে রেখো!” লাবিব ডাক্তারের চোখের দিকে তাকাল, তারপর ফিসফিস করে বলল, “যদি এমন হয় যে সে আগে থেকে জানে?” ডাক্তার ওর কথা ঠিক শুনতে পেলেন না, জিজ্ঞেস করলেন, “কী বললে ইয়ংম্যান?” লাবিব হঠাৎ টমেটোর মতো লাল হয়ে বলল, “না, কিছু না।”

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.