read.cash Log in
@Adnan334 more from that month

পদ্মা

হিমালয় পর্বতমালার 12800 ফুট উঁচুতে গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর প্রদেশ , বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা নদী ভাগীরথী ও পদ্মা নামে বিভক্ত হয়েছে। রাজশাহী জেলার ভিতর দিয়ে পদ্মা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গোয়ালন্দের নিকট এটি যমুনার সাথে মিলিত হয়।এ মিলিত স্রোত ধারা চাঁদপুরের নিকট মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। ডি. বারোজের মানচিত্রে পদ্মাকে অনেক বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পদ্মা অতীতে অনেকবার তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। চতুর্থ শতকের পর্যটক বতুতার বর্ণনায় এবং পঞ্চদশ শতকের পরিব্রাজক মা হুয়ান এর বিবরণ থেকে জানা যায়, সেসময় পদ্মা চট্টগ্রামের নিকট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো। আইন-ই-আকবরী প্রণেতা আবুল ফজল একই কথা উল্লেখ করেছেন।রেনেলের এর মানচিত্র অনুযায়ী, পদ্মার প্রাচীন প্রবাহ ফরিদপুর জেলার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ এর নিকট কন্দর্পপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হতো। পরে এ ধারাটি , যা ময়নাকাটা ও আড়িয়ালখা নামে পরিচিত ছিল।পদ্মার বর্তমান প্রবাহ একসময় পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে প্রাচীন কালিগঙ্গা ধরে বিক্রমপুরের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।এ ধারাটি 'কীর্তিনাশা' বা 'নয়াভাঙ্গনী' নামে পরিচিত ।রেনেলের মানচিত্রে এ ধারাটি উল্লেখ ছিল না । তবে ১৮৪০সালে 'ট্রপোগ্রাফি অব ঢাকা' গ্রন্থে টেলর 'কীর্তিনাশার' উল্লেখ করেছেন। রেনেল অবশ্য পদ্মার আরেকটি ধারার কথা অনুমান করেছিলেন যা বর্তমান প্রবাহের উত্তর দিক দিয়ে মুন্সীগঞ্জের নিকট মেঘনার সাথে মিলিত হতো।বর্তমানে পদ্মা আরও দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞানীগণ ধারণা করেছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, অতি সাম্প্রতিক কালের মধ্যে 3 বার এর গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

No comments yet

Log in to join in Reading is open to everyone. Replying needs an account.